ট্রাম্পের সময় ফুরিয়ে আসছে, বিশ্ব এখন তিন ভাগে বিভক্ত

পুতিনের জন্য এটি প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টার এক বড় সাফল্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় গণতন্ত্রের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে রাশিয়ার নিজস্ব উঠোনে ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখে এসেছেন। এখন তিনি এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন যিনি তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। ট্রাম্প পুতিনকে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি উচ্চ মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন।
একইভাবে শি জিনপিংও পূর্ব এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মৌখিক পশ্চাদপসরণকে স্বাগত জানিয়েছেন, বিশেষ করে যদি এটি চীনকে পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে বৃহত্তর সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সাথে সাথে চীনের প্রতি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখযোগ্যভাবে ইতিবাচক হয়েছে। কানাডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের ভাষায়, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি উপকারী কোনো প্রেসিডেন্ট চীনের জন্য আর কখনো আসেননি’।
এখানে কেবল ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণই একমাত্র বিষয় নয়। তিনটি সরকারই তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সুযোগ দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদও একটি বড় নিয়ামক।
বাণিজ্যিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ উভয় দিক থেকেই এই তিনটি দেশ পরবর্তী মহাকাশ প্রতিযোগিতার মূল খেলোয়াড়। ইউরোপ এবং বাকি বিশ্বকে উপেক্ষা করে এই তিনটি দেশ যদি একসাথে কাজ করতে শুরু করে, তবে তা ভূরাজনীতির প্রকৃতিকে মৌলিকভাবে বদলে দেবে। এক দশক আগে একটি বহুমুখী (মাল্টিপোলার) বিশ্বের আলোচনা গড়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন—এই তিনটি শক্তিশালী ব্লককে ঘিরে। কিন্তু কোনোভাবে ব্রাসেলসের জায়গা দখল করে নিয়েছে মস্কো।
এখন পর্যন্ত বাকি পশ্চিমা বিশ্ব মোটের ওপর কোনোমতে দিন পার করার চেষ্টা করেছে। ন্যাটো এখনও কাগজে-কলমে টিকে আছে, জি৭ এবং জি২০ সম্মেলনগুলো বিশৃঙ্খল হলেও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের আশাবাদীরা উল্লেখ করেন যে ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর প্রশাসন এখনও জাতিসংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাদের শেষ মাসগুলোতে পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য খোঁজেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে তারা কদাচিৎ তা পান। এহুদ বারাক এবং ইয়াসির আরাফাত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্লিনটনের ক্যাম্প ডেভিড আলোচনা ভেস্তে যায়। বুশ দাবি করতে পারেন যে সোমালিয়ায় তার প্রাথমিক অভিযান দুর্ভিক্ষ লাঘব করেছিল, তবে তার সমাপ্তি ঘটেছিল চরম অপমানে। একজন যুদ্ধবাজ নেতার ওপর ভুল অভিযানের কারণে ১৮ জন মার্কিন সেনা এবং কয়েক শত সোমালি নাগরিক নিহত হন। কিউবা ও ইরানে ওবামার কূটনীতি সফল হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে দ্রুতই তা বাতিল করে দেন।

