শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
এইচএসসিতে ফেল, মাগুরায় দুই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার৫ ঘণ্টা পর মহাসড়ক ছাড়লেন শ্রমিকরা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইক থেকে ছিটকে পড়ে যাত্রী নিহতশ্লীলতাহানির অভিযোগে সালিস, ব্যাংক চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ৫৬ বছর বয়সে আবার বিয়ে করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহফের ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, সাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন নিম্নচাপদীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫২ বছরে শেফালীর এইচএসসি জয়অংশীদারিত্বের ছদ্মবেশে আফ্রিকা বিক্রি করছে রাশিয়াসরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ারমেয়েদের শিক্ষানীতিতে তালেবানের পক্ষ নেওয়ায় তিন দেশে সমালোচনার মুখে জাকির নায়েক
বিজ্ঞাপন

তাহসিফ হত্যা মামলায় পাঁচ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
তাহসিফ হত্যা মামলায় পাঁচ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

তুরাগ নদী থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৭) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে তাহসিফকে কোথায় হত্যা করা হয়েছিল? কারা এতে জড়িত? কীভাবে তার মরদেহ তুরাগ নদীতে ফেলা হলো? আর ঘটনার পর কোথায় গেল তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কথা উল্লেখ করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সে জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে চাইলে পুলিশকে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাহসিফকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান। এরপর তাদের আর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি।

তদন্তের কেন্দ্রে দীপ

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, তাহসিফকে নিয়ে দীপ টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। পরে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তাহসিফকে তার ‘সিনিয়র বড় ভাই’ বলে জানান।

পুলিশের ভাষ্য, এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ, ঘটনাস্থল এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এখনো তদন্তাধীন।

কোথায় গেল তাহসিফের মোটরসাইকেল? এ প্রশ্ন রিমান্ড আবেদনের অন্যতম বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্তকারীদের ধারণা, মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের মাধ্যমে তাহসিফের শেষ চলাচল এবং ঘটনার আগে-পরে তার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।

হত্যায় আরও কেউ জড়িত?

তাহসিফের মরদেহ পাওয়া গেছে তুরাগ নদীতে। কিন্তু তাকে ঠিক কোথায় হত্যা করা হয়েছিল,‌ এখনো তা নিশ্চিত নয় বলে রিমান্ড আবেদনের তথ্য থেকে জানা গেছে। পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে দীপের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঘটনাস্থল শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করেছে। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডে দীপের বাইরে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। এ কারণে দীপের কাছ থেকে অন্যদের পরিচয়, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে-পরে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ।

পুলিশের চাওয়া পাঁচ উত্তর

রিমান্ড আবেদনে সাত দিনের হেফাজতের পক্ষে পুলিশ পাঁচটি কারণ দেখিয়েছে— হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার,‌ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার, তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার ও হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ।

পুলিশের দাবি, দীপ জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপন করে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এ ঘটনায় উত্তরখান থানায় ৩১ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে পিবিআই, ঢাকা উত্তর হেফাজত থেকে দীপকে নৌ পুলিশ গ্রহণ করে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন তাহসিফকে কোথায় হত্যা করা হয়েছিল, কারা জড়িত ছিল এবং তার মোটরসাইকেল কোথায়? পুলিশের দাবি, রিমান্ডে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।

আদালতে আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে এক এই প্রশ্নের উত্তর জরুরি। উত্তরগুলো পাওয়া গেলে অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...