অনলাইনে সহিংসতার শিকার ৪৫% নারী, মাত্র ৪% আইনের আশ্রয় নেন: গবেষণা

গবেষণা থেকে উঠে আসা তথ্য তুলে ধরেন মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান ও ডিজিটালি রাইটের হেড অব রিসার্চ আব্দুল্লাহ তিতির। তারা জানান, গবেষণাটি মিশ্র পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছর ৭ থেকে ১৩ জানুয়ারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট জেলার সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৫ থেকে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫২১ জন নারী, তরুণী ও কিশোরীর ওপর জরিপ করা হয়। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে চারজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রযুক্তি-সহায়তায় সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন আটজন নারীর বিস্তারিত সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।
জরিপ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতাদের সাক্ষাৎকার এবং ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে চারটি বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—সহিংসতার ধরন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বিস্তার, প্রতিকার চাইতে গিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ও বাধা, অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের সহিংসতার প্রচলন এবং আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইনে সহিংসতার শিকার নারীদের ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ গত ১২ মাসেও এ ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ একটি ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। আর ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ একই সঙ্গে দুই বা তার বেশি ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, অনলাইনে উপস্থিত থাকলে হয়রানির শিকার হওয়া স্বাভাবিক।

