বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
নতুন বেতন কাঠামোয় অসংগতি দূর করতে কমিটি গঠনঅনুমোদন ছাড়া ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে নিষেধাজ্ঞা, ছাড়পত্র বন্ধের নির্দেশপাঁচ বছরের মধ্যে শরীয়তপুরে ট্রেন চালু হবে: হুইপ অপুছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার, সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষকহামের টিকা: অন্তর্বর্তী সরকারের দায় খুঁজতে তদন্ত কমিশন গঠনবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ: গবেষণাবৃহস্পতিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াতইবিতে ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কামাদক সেবনের দায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার, ১৫ দিনের কারাদণ্ড‘নীল সুনামিতে’ ডেমোক্র্যাটদের জয় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে ইসরায়েলি মিডিয়া
বিজ্ঞাপন

ইবিতে ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ইবিতে ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কা

কর্মচারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১৯৬তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী বা সন্তানদের যোগ্যতা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের দিকে একই প্রক্রিয়ায় পোষ্য কোটায় দুজনকে স্থায়ী নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে সামান্য বেতনে পরিবার নিয়ে এমনিতেই কষ্টে দিন কাটছে। এর মধ্যে চাকরি হারানোর অনিশ্চয়তা তাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে।

এদিকে ২০২০ সালের ইউজিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত এডহক, মাস্টাররোল ও দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরতদের বেতন বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হবে এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া যুক্ত হওয়া কর্মচারীদের জন্য ইউজিসি কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখবে না। তবে কর্মচারীদের দাবি, ইউজিসির এ ধরনের নির্দেশনা আগেও থাকলেও বিগত প্রশাসনগুলো তাদের বেতন বন্ধ করেনি।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীর জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া এবং তাদের আর না রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির চিঠির ভিত্তিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি জনবল সংকটের বিষয়ে নতুন করে নোট দিতে বলেছে ইউজিসি। প্রশাসন সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তর চাইলে বর্তমানে কর্মরত এসব কর্মচারীকে কাজে রাখতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের বেতনের দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরকেই বহন করতে হবে।

এ বিষয়ে কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, সবার অন্য কোথাও চাকরি করার মতো অবস্থাও আমাদের নেই। পরিবার নিয়ে এখন আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। তৎকালীন নীতিমালা অনুযায়ী সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে পোষ্য কোটায় আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে চাকরি স্থায়ী করা হবে। কিন্তু এখন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে আমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ থেকে ২০ বছর কাজ করার পর হঠাৎ ছাঁটাই করা হচ্ছে। আমরা এখন কোথায় যাব, কী করব, কী পরিচয় দেব? মূলত আমাদের জায়গায় নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্যই আমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। সার্কুলারের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। সেখানে টাকার লেনদেন হবে বলে আমাদের আশঙ্কা। ইউজিসির ছাঁটাইসংক্রান্ত নির্দেশনার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রতিবছরই ইউজিসি এ ধরনের চিঠি দেয়। বিগত প্রশাসনগুলো তো আমাদের বাদ দেয়নি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ইউজিসি টাকা দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা দিতে হচ্ছে। এ কারণে বকেয়া তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ২১ লাখ টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই টাকার উৎস কোথায়? আমি কীভাবে এই ব্যয় নির্বাহ করব?

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...