বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে অর্থ লোপাট: ইনুসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

বাংলাদেশ বেতারের আধুনিকায়ন প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করে সরকারের বিপুল অর্থ ক্ষতির অভিযোগে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ কমপ্লেক্স আগারগাঁও ঢাকায় স্থানান্তর নির্মাণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির তৃতীয় সভায় প্রথমে প্রায় ৭ কোটি টাকার একটি ব্যয় প্রস্তাব তৈরি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ম্যুরালটি নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় ব্রোঞ্জ ম্যুরালের নকশা অনুমোদন পায়। এরপর ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১২ জুনের মধ্যে নয়টি পৃথক বিলের মাধ্যমে সর্বমোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি খাতের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ম্যুরালটি মূল প্রকল্পের কোনো প্রয়োজনীয় বা অপরিহার্য অংশ ছিল না। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মূল প্রকল্পের মধ্যে ম্যুরালটি অন্তর্ভুক্ত করে সরকারের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন।
অনুসন্ধানে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা ছাড়াও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

