মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বন্ধ হলেও কাটেনি আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বন্ধ হলেও কাটেনি আতঙ্ক

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বন্ধ হলেও কাটেনি জনমনে আতঙ্ক। মহাসড়কে যানচলাচল শুরু হলেও তেমন কোনো চাপ নেই। খুলেনি অনেক দোকানপাট। ঘর থেকেও সহজে বের হচ্ছে না বাসিন্দারা।

মিরপুর-১১ নম্বরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টা থেকে পোষাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরুর ঘটনা ঘটে। অপরদিকে বেলা ১১টার দিকে কালশীকে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে মারধর করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

শ্রমিক-পুলিশের টানা আড়াই ঘণ্টার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের পিছু হটাতে সক্ষম হয়৷ পরবর্তীতে অল্প অল্প করে যান চলাচল শুরু এবং মিরপুর-১১ নম্বর ও পল্লবীর মেট্রো স্টেশন চালু হয়।

মিরপুর-১১ নম্বরে শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায়ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
মিরপুর-১১ নম্বরে শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায়ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এদিকে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া থামলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। এখনো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের এপিসি ও জলকামান।

মিরপুরের ইটপাটকেল পড়ে থাকা রাস্তায় নেই সেই চিরচেনা ভীড়। ঢিলেঢালাভাবে চলছে যানবাহন। গণপরিবহন তেমন একটা নেই, বেশির ভাগই রিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা। অপরদিকে মেট্রোরেল স্টেশনও প্রায় জন শূন্য। স্টেশনের স্টাফরা থাকলে তেমন কোনো যাত্রী নেই। কয়েক মিনিট পর পর দু-একজনকে মেট্রো স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নামতে দেখা যায়।

পল্লবীর মেট্রোরেল স্টেশন প্রায় জনশূন্য।
পল্লবীর মেট্রোরেল স্টেশন প্রায় জনশূন্য।

মিরপুর-১১, পল্লবী ও কালশী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আন্দোলনের কারণে অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। আবার দুপুরের পর থেকে কোনো কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে।

কথা হয় শারমিন আক্তার নামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সবার মাঝে ভয় আতঙ্ক কাজ করছে। যার কারণে সহজে এই এলাকায় কেউ আসতে চায় না।

শারমিন বলেন, আমিও আসতাম না। কিন্তু না এসে উপায় নেই। ঝুঁকি নিয়েই আসতে হয়েছে। কারণ বাসা আমার এই এলাকায়।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মিরপুরের মেট্রোরেল স্টেশন পুরাই ফাঁকা। ঈদের ছুটি ব্যতিত এমন ফাঁকা আমি আগে কখনো দেখিনি। অন্য সময় প্রতিযোগিতা করে টিকিট কাটতে হত। এখন লাইনে থাকা তো দূরের কথা, কয়েকজন ব্যতিত স্টেশনে কেউ নেই।

মিরপুর-১১, পল্লবী ও কালশী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। তারা জানান, মারামারি ও হানাহানির মধ্যে সহজে ঘর থেকেও বের হতে চান না কেউ। বের হলেও যথা সম্ভব ঝামেলাপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

তাদের একজন ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য পুরোই শেষ৷ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কোনোমতে জীবন নিয়ে বাসা চলে আসছি।

আন্দোলনের কারণে মিরপুরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের কারণে মিরপুরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, বেঁচে থাকলে ব্যবসা করাই যাবে, দু-দিন আগে পরে। যদি বেঁচেই না থাকি, সুস্থই না থাকি, তাহলে ব্যবসা করব কীভাবে?'

মিরপুর সড়কে চলা অছিম, প্রজাপতি, বসুমতি ও রাজধানী বাসের কয়েকজন চালকের সঙ্গে। তাদের মধ্যে একজন প্রজাপতি বাসের চালক সুমন মিয়া। তিনি এই সড়কে লাগাতার সংঘর্ষের কারণে বাস চালাতে না গিয়ে বাসাতেই রয়ে গেছেন। বাসা থেকে পল্লবীতে আসেন সড়কের হালচাল দেখতে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...