আনারকলি চাষে স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের রিপন

রিপন জানান, বাজারে প্রতিটি ফল ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি প্রায় ৬০০ টাকা দরে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। পাইকারেরাও বাড়িতে এসে ফল কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে আপাতত ফল বিক্রির চেয়ে চাষ সম্প্রসারণেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে তিন শতাধিক চারা উৎপাদন করেছেন, প্রতিটি বিক্রি করছেন ৩০০ টাকায়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের লক্ষ্যে নিজের এক বিঘা জমিতে চারা রোপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
তাঁর অভিজ্ঞতায়, আনারকলি গাছে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম। প্রয়োজনীয় জৈব সার, ছত্রাকনাশক ও ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করা যায়। ফুল ফোটার পর হাতে পরাগায়ন করলে ফল ধারণের হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। শীতের তিন মাস বাদে বছরের অধিকাংশ সময় গাছে ফল পাওয়া যায়। একটি গাছ প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী বলেন, আগে ফেসবুকে আনারকলি সম্পর্কে দেখেছি। এখন বাড়ির পাশেই ফলটি দেখতে ও খেতে পারছি। স্থানীয় মাটিতে গাছের ভালো বৃদ্ধি এবং প্রচুর ফল দেখে আমি চাষে আগ্রহী।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোত্তাকিন জানান, প্যাশন ফ্রুট দক্ষিণ আমেরিকার পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি লতানো ফল। বাংলাদেশে এটি আনারকলি নামে পরিচিত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি প্যাশন ফল-১’ একটি জনপ্রিয় জাত। ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন।
ফুলবাড়ীতে প্রথমবারের মতো এ ফল চাষের খবর পেয়েছেন জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, শিগগিরই সরেজমিনে রিপনের বাগান পরিদর্শন করে চাষের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

