সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরাগাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে বিজিবি সদস্য আহতসনদ অর্জনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরশ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১৫৪ লাখ টাকার কালভার্ট আছে, সংযোগ সড়ক নেইখুলনায় তাঁতী দল নেতা হত্যা: ছাত্রদল নেতাসহ ৫ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপিপুত্র মিন্টু ফের ২ দিনের রিমান্ডেআশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যানে আগুন, পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলে নতুন শুরুর প্রত্যাশীদের এক তিক্ত রাত, আপাতত টিকে গেলেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ইসরায়েলে নতুন শুরুর প্রত্যাশীদের এক তিক্ত রাত, আপাতত টিকে গেলেন নেতানিয়াহু

কিন্তু মূল ভোট গণনা শুরু হতেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। নেতানিয়াহুর জোট ভোটের হিসাবে অনেকটাই এগিয়ে যায় এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসন পায়। বিরোধী জায়নবাদী দলগুলো পিছিয়ে পড়ে।

আরব দলগুলো ভালো অবস্থান ধরে রাখলেও পূর্বাভাস অনুযায়ী আসন পায়নি। কিন্তু বিরোধীদের বড় সংকট হলো, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে চারটি জায়নবাদী বিরোধী দলের মধ্যে তিনটি দলই আরব দলগুলোকে জোটে নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সামগ্রিকভাবে বিরোধী ভোট বেশি পাওয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ পেয়ে যান।

এখনো কোনো নির্দিষ্ট জোট ৬১ আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। আগামী দিনগুলোতে সরকার গঠনের আলোচনা জটিল রূপ নেবে। শেষ পর্যন্ত একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট বা দুর্বল সংখ্যালঘু সরকারও গঠিত হতে পারে। কিন্তু একটি সত্য স্পষ্ট, ইসরায়েলের সমাজ কখনো এতটা বিভক্ত ছিল না। রাজনৈতিক শিবিরগুলোর দূরত্ব এখন একেবারেই অনতিক্রম্য। বিরোধীদের ভোট দেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলিরা ভেবে পাচ্ছেন না, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর মিত্রদের নেতৃত্বাধীন একটি চরমপন্থী, গণতন্ত্রবিরোধী ও যুদ্ধবাজ সরকারের অধীনে তারা কীভাবে বসবাস করবেন।

অথচ বাস্তবতা হলো, দেশটির অধিকাংশ ভোটার আসলে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকেই বেছে নিয়েছেন। পার্লামেন্টে ডানপন্থীদের দখলে এখন অন্তত ৭৪টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট যেমন আছে, তেমনি বিরোধী শিবিরের আভিগদোর লিবারম্যান ও নাফতালি বেনেটের মতো কট্টর ডানপন্থীরাও রয়েছেন। এখন যে সরকারই আসুক না কেন, পার্লামেন্টে এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সামরিকবাদীদের নিরঙ্কুশ দাপটের মুখে মধ্যপন্থী ও বামপন্থীরা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে চরম আতঙ্কে পড়েছেন।

সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আরব নাগরিকদের ওপর। যে সরকার তাদের প্রতি বৈরিতা দেখিয়েছে, তাকে হঠানোর লক্ষ্য নিয়েই তারা রেকর্ড সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সেই বিপুল অংশগ্রহণ কোনো ফল বয়ে আনল না।

মধ্যবামপন্থী দল ডেমোক্র্যাটস হয়তো ৯টির মতো আসন পেতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের যে প্রায় ২০ শতাংশ নাগরিক নিজেদের বামপন্থী ভাবেন, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর আধিপত্য কায়েম না করে একটি শান্তির দেশের স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য আশা করার মতো কোনো ভবিষ্যৎ আর অবশিষ্ট রইল না।

ইসরায়েল বরাবরই বিভক্ত সমাজ ছিল, তবু কোনোমতে তারা একসঙ্গে টিকে ছিল। কিন্তু অতীতের সেই রাজনৈতিক বিতর্কগুলো এখন এক গভীর অস্তিত্বের সংকটে রূপ নিয়েছে। বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইসরায়েলের নাগরিকদের নিজেদের মধ্যে পরস্পরের মেলবন্ধনের কি আর কিছু বাকি আছে, নাকি অনেকে আশা হারিয়ে স্রেফ দেশ ছেড়ে চলে যাবেন?

লেখক পরিচিতি: ডালিয়া শিন্ডলিন, তেল আবিবভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...