রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
ডিএমপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও নিউজ পোর্টাল ‘হ্যাকড’!রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক আচরণ নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকিংবদন্তিদের গল্প নিয়ে বিটিভির নতুন অনুষ্ঠানফ্রান্সজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ২০ সিজনে শেষ হচ্ছে ‘ক্রিমিনাল মাইন্ডস’কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল, ‘এসবিএস’ গ্রুপের ৪ সদস্য গ্রেপ্তারবনানী থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আব্দুল হাফিজ গ্রেপ্তারঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তরচারজনের জায়গায় ৮: গাদাগাদি যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে ছুটে চলে অটোরিকশানেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ার আহ্বান ইসরায়েলিদের
বিজ্ঞাপন

সাভারের জলাশয়ে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি, দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
সাভারের জলাশয়ে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি, দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা

গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এ দূষণের সম্ভাব্য উৎসের মধ্যে রয়েছে রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও পোশাকশিল্প এবং ভারী শিল্পকারখানা। সাভারের ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) ও এর আশপাশের শিল্পকারখানার আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিম এলাকার পানিতে পিএফএএসের মাত্রা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসডো। এসব শিল্পকারখানার মধ্যে বস্ত্র, চামড়া, রাসায়নিক ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ট্যানারি শিল্প থেকেও এ ধরনের দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন শিল্পে কাপড়ের রং, পানি ও তেল প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য তৈরি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় পিএফএএস-জাতীয় রাসায়নিক ব্যবহৃত হতে পারে। তবে কোন কারখানা থেকে কী পরিমাণ রাসায়নিক জলাশয়ে ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিত করতে আরও সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন।

এসডোর গবেষণায় পানির নমুনা পরীক্ষা করে ৫৫টি পিএফএএস যৌগের উপস্থিতি অনুসন্ধান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিএফবিএ, পিএফপিইএ, পিএফএইচএক্সএ, পিএফওএ, পিএফওএস এবং বিভিন্ন ফ্লুরোটেলোমার অ্যাসিড। গবেষণাসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পিএফওএ ও পিএফওএসের মতো কিছু যৌগ আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত। এসব রাসায়নিকের উপস্থিতি শীতের জ্যাকেট, ট্রাউজার ও হিজাবের মতো বাজারে বিক্রি হওয়া পোশাকেও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পিএফএএসের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে মানুষের প্রজননক্ষমতা ও ভ্রূণের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব রাসায়নিকের সঙ্গে থাইরয়েড হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং টিকার কার্যকারিতা হ্রাসের সম্পর্কও পাওয়া গেছে। কিছু পিএফএএসের সংস্পর্শে কিডনি ও অণ্ডকোষের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জলজ প্রাণী ও খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমেও এসব রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিএফএএস সহজে ভেঙে না যাওয়ায় পরিবেশে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। তাপ, সূর্যের আলো কিংবা সাধারণ জৈবিক প্রক্রিয়ায় এসব যৌগ সহজে নষ্ট হয় না। ফলে দূষিত পানি ও মাটির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনে ফেলা হচ্ছে শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। ছবি : এশিয়া পোস্ট
অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনে ফেলা হচ্ছে শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নয়নজুলি খাল ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানান, দূষিত পানি ও ড্রেনের দুর্গন্ধে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, পানির দুর্গন্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ চর্মরোগ, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব অসুস্থতার সঙ্গে পানি বা পিএফএএস দূষণের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে চিকিৎসা ও পরিবেশগত পরীক্ষা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফা বেগম বলেন, আমাদের অনেক সমস্যা। ঘরের টিভি, ফ্রিজ ও আসবাবপত্রও ভালো থাকে না, নষ্ট হয়ে যায়। পচা ও দূষিত পানির গন্ধে ঘরে থাকা কঠিন। সোনা-রুপার গয়না পরলেও কালো হয়ে যায়। পানি ব্যবহার করতে পারি না, পানও করতে পারি না। একটি কোম্পানি থেকে পানির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে, তারপরও আমরা খুব অসুবিধায় আছি।

আরেক বাসিন্দা তাপসী সরকার বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই পানি আমাদের অনেক ক্ষতি করছে। আমার বড় ছেলে অসুস্থ, আমিও অসুস্থ। কাশি ভালো হয় না, চুলকানিও আছে। আবার ঠান্ডা-জ্বরও হচ্ছে। আগে এখানে এমন পরিস্থিতি ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পোশাক কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কাপড়ের রং ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, পরিবেশগত নিয়ম ও মানদণ্ড মেনে এসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হলেও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক বর্জ্য খোলা জলাশয় বা ড্রেনে ফেলা হলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...