থাইল্যান্ডের পর্যটন বাজার যেভাবে দখলে নিচ্ছে ভিয়েতনামসহ প্রতিবেশিরা

বিশ্বের ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য থাইল্যান্ড। তবে পর্যটকরা ক্রমেই যেন দেশটির প্রতি আকর্ষণ হারাচ্ছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পর্যটন নির্ভর থাইল্যান্ডের অর্থনীতি। আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে পড়ে মারাত্মক সংকটে পড়েছে দেশটির পর্যটন খাত।
ইউনিভার্সিটি অব দ্য থাই চেম্বার অব কমার্সের সাম্প্রতিক জরিপে উঠেছে পর্যটন খাতের হতাশাজনক চিত্র। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫৯.১ শতাংশ পর্যটন ব্যবসায়ী মনে করেন, থাইল্যান্ড তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাচ্ছে। একারণে, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৩১.৫ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে বিলম্বের কারণে মালয়েশীয় পর্যটক আগমন ১৫.২ শতাংশ কমেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক কমেছে ২৫.৪ শতাংশ। আর বারবার ভিসা নীতি পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় ভ্রমণকারীদের সংখ্যাও কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর মধ্যে ফ্লাইটের আসন সংকট, সীমান্ত বিলম্ব, জটিল ভিসা নীতি নিয়ম এবং নিরাপত্তা শঙ্কাকে পর্যটক কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটি। ৬০ শতাংশেরও বেশি ব্যবসায়ী মনে করেন, প্রাক-কোভিড সময়ের চার কোটি পর্যটকের চূড়ায় ফিরতে ২০৩১ সাল বা তারও বেশি সময় লাগবে।
অন্যদিকে, অনুকূল ভিসা নীতি ও সরাসরি ফ্লাইট বৃদ্ধিতে ভিয়েতনামে রুশ পর্যটক আগমন ১৬০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে থাইল্যান্ডে তা স্থবির রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকরাও বিকল্প হিসেবে ভিয়েতনাম ও জাপানকে বেছে নিচ্ছেন। এদিকে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও প্রতারক চক্র ও নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েই গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সারচার্জ বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট খরচ জাপানের চেয়ে আড়াই গুণ বেড়েছে।
সংকট কাটিয়ে উঠতে থাই সরকারের কাছে চার্টার্ড ফ্লাইট বৃদ্ধি, ভিসা নীতি স্থিতিশীল করা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন দেশটির পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা।

