পান চাষে দুর্দিন, জীবিকার তাগিদে টিকে থাকার লড়াইয়ে খাসিয়ারা

পান ব্যবসার এই দুর্দিন নিয়ে শ্রীমঙ্গলের নাহার পুঞ্জির বাসিন্দা ডিবারমিন পতাম আক্ষেপ করে বলেন, চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে কিছুটা আশা জাগলেও জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অত্যন্ত কম দামে পান বিক্রি করতে হয়েছে। এখন শীতের আগমনে পানের মৌসুম শেষ পর্যায়ে। অনেক জুমে পান প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে পুঞ্জির পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পানের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় চাষীরা দিশাহারা। অনেকে মহাজন বা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান (সমাজপ্রধান) ফিলা পতমী এশিয়া পোস্টকে বলেন, পানের নানা রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ মোকাবিলা করে এ বছর যেটুকু উৎপাদন হয়েছে, তারও ন্যায্যমূল্য মেলেনি। চারদিকে সবকিছুর দাম বাড়ছে, অথচ আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস পানের দাম দিন দিন কমছে। সরকারি আর্থিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে আজ আমাদের এই দুর্দিন দেখতে হতো না।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতিছড়া খাসিয়াপুঞ্জির হেডম্যান বিওয়ানলী সুঙ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগের মতো পাইকাররা পান কিনতে ন্যায্য দাম দিচ্ছেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে তীব্র আর্থিক অনটনে পড়তে হচ্ছে। তবু শত বছরের বাপ-দাদার ঐতিহ্য ও জীবিকার টানে পান চাষ ধরে রেখেছি। সংসারের খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে ঋণ করতে হচ্ছে।
আদিবাসী খাসিয়াদের সংগঠন খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের প্রচার সম্পাদক সাজু মারছিয়াং এশিয়া পোস্টকে বলেন, খাসিয়াদের অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। জুমে পান কমে যাওয়া এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তরুণ প্রজন্মসহ সবাই হতাশ। খাসিয়া পান বিদেশে রপ্তানি হয়ে দেশের সুনাম বাড়ালেও উৎপাদকেরা আজও অবহেলিত। সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও সঠিক বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে এই ঐতিহ্য রক্ষা করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, চাষীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পান চাষে নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

