বিশ্বনাথকে পরের ম্যাচেও স্ট্রাইকার হিসেবে খেলাবেন ডুলি

হতে পারে প্রতিপক্ষ ভুটানকে চমকে দিতে চেয়েছে বাংলাদেশ! কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষারও তো একটা সীমারেখা আছে। ডুলির কাছে যেন সাফের মঞ্চও ল্যাবরেটরি! অথচ গোলদাতা সংকটের সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ইংল্যান্ড প্রবাসী মাহি খানকে উড়িয়ে এনেছিলেন তিনি। মাহিকে ২৩ জনের স্কোয়াডেও কাল রাখা হয়নি। অনভিজ্ঞ কাউকে চূড়ান্ত স্কোয়াডে না রাখার যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু দলে তো ফরোয়ার্ড ফাহমিদুল ইসলাম, শুকি ইতোফুসা ছিলেন; যাঁদের আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এমনিতে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ একটা বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে। গত পরশু যে তপু বর্মণকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়েছিল, তিনি ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন। এখানে ভাগ্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জামাল ভূঁইয়ার দিকে। আর্মব্যান্ডই শুধু ওঠেনি হাতে, জামাল গেম টাইম পেয়েছেন একেবারে ম্যাচের শুরু থেকে। ম্যাচের আগে চোটাঘাতে একাদশ বদলে গেলে নিশ্চিতভাবে কৌশলেও সেটার প্রভাব পড়ে। প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সেও। সে কারণে পরিসংখ্যান, রেকর্ড, র্যাঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে থাকার পরও ভুটানের সঙ্গে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ পারেনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স উপহার দিতে।
বাংলাদেশ কোচ ডুলি গত দুই মাসে একাধিকবার বলেছেন, সাফ শিরোপা জয়ই তাঁদের মূল লক্ষ্য। লক্ষ্য যখন বাস্তবসম্মত হয়, তখন সেটি পূরণ হয়। সাফ জয় ডুলির কাছে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। সেপ্টেম্বর ফিফা আসিয়ান কাপ ছিল ডুলির চোখে দলকে পরখ করে দেখার মঞ্চ। আসিয়ান কাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে ২ গোল দিয়ে ১৩ গোল হজম করা ডুলি যখন সাফের মঞ্চেও একই কাজ করেন, তাতে শুধু বিস্ময়ই নয়, প্রশ্নও তৈরি করেন যথেষ্ট। শিরোপা জেতার লক্ষ্যে নেমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই, দরকার হয় চেনা সৈনিকদের যথার্থভাবে কাজে লাগানো—এই ব্যাকরণকে বুড়ো আঙুল দেখাতে গিয়ে যদি হোঁচট খেতে হয়, ডুলিকে তাতে বড় খেসারত দিতে হতে পারে!

