‘রামায়ণ’-এর গানে সুফি প্রভাবের বিতর্ক, জবাব দিলেন এ আর রহমান

অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের সুরে তৈরি হয়েছে নীতিশ তিওয়ারি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’। সিনেমাটির সদ্য প্রকাশিত ‘মঙ্গল রং’ গানটি নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে গানটির সুর ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে কাওয়ালি ও সুফি সংগীতের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। এবার সেই সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন এই সংগীত পরিচালক।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, কোনো সুর বা সংগীতকে খুব দ্রুত বিচার করা উচিত নয়। এ প্রসঙ্গে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের একটি মন্তব্য স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পৃথিবীর সবাইকে খুশি করতে চান, তাহলে সংগীত ছেড়ে আইসক্রিম বিক্রি করতে যান।’
‘মঙ্গল রং’ গানটি রাম ও সীতার বিয়ের পটভূমিতে তৈরি। অরিজিৎ সিং ও শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠে গানটির কথা লিখেছেন কবি কুমার বিশ্বাস। প্রকাশের পর থেকেই গানটির সংগীতায়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একদল শ্রোতার অভিযোগ, পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্রের এমন একটি গানে কাওয়ালি ঘরানার প্রভাব থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি রাবণের তাণ্ডব দৃশ্যের সংগীতে ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কেউ কেউ।
তবে গানটির সুর তৈরির পেছনে নিজস্ব সংগীতভাবনার কথা জানিয়েছেন রহমান। তিনি বলেন, নিজের কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক তিনি নিজেই। তার ভাষায়, ‘এমন নয় যে আমি যা তৈরি করি, তার সবকিছুই আমার ভালো লাগে। আমরা একদিনে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। কখনো কখনো একটি সুরের সঙ্গে মাসের পর মাস সময় কাটাতে হয়।’
সংগীতের পরিপক্বতা বোঝাতে আচারের উদাহরণও দিয়েছেন এই সুরকার। তার মতে, কিছু সুরের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরোনো আচারের স্বাদ যেমন সময়ের সঙ্গে বাড়ে, তেমনি কিছু সংগীতও শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে সময় নেয়। এ ছাড়া কোনো সুর বা বাদ্যযন্ত্র নির্বাচনের পেছনে নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক বিবেচনাও কাজ করতে পারে। তাই পুরো সংগীতের প্রেক্ষাপট না বুঝে একটি বিশেষ অংশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।
‘মঙ্গল রং’-এর সুরের ধরন নিয়েও সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন রহমান। গানটিতে বিলাবল ঠাটের শুদ্ধ স্বরকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি। এর সঙ্গে মাণ্ড রাগ ও পাহাড়ি সুরের উপাদান যুক্ত করেছেন। তার এই সংগীতায়োজনের পেছনে ভক্তিমূলক সংগীত ও বিয়ের গানের প্রচলিত সুরধারার প্রভাব রয়েছে।
এদিকে ‘রামায়ণ’-এর সংগীত পরিচালনায় হলিউডের বিখ্যাত সুরকার হ্যান্স জিমারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন রহমান। তার মতে, জিমারের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে। বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই সুরকারের নাম চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় নতুন দর্শকও ভারতীয় মহাকাব্যের গল্পটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবেন।
সিনেমাটির সংগীত তৈরির কাজের ব্যাপকতা বোঝাতে রহমান জানান, পুরো প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০টি চলচ্চিত্রের সমপরিমাণ কাজ করতে হয়েছে। পাঁচটি ভিন্ন ভাষায় গান ও আবহসংগীত তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি হলিউড ও ভারতীয় সংস্করণের জন্য আলাদা সংগীতায়োজনের কাজও রয়েছে। প্রতিটি সুর ও সংগীতের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নামিত মালহোত্রা প্রযোজিত দুই পর্বের ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’ চলচ্চিত্রে রামের চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর কাপুর। সীতা চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী এবং রাবণের ভূমিকায় দেখা যাবে যশকে। প্রথম পর্বটি আগামী ৫ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পাবে ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

