বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না করা খাবারে মিশছে সিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না করা খাবারে মিশছে সিসা

পাত্র পরিষ্কারের পদ্ধতিও সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণকে প্রভাবিত করে। নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে না ঘষে ব্যবহারের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা খাবারে মেশে। ধাতব খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলেও সিসা নির্গমনের পরিমাণ বাড়ে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের শিশুদের ভাত খাওয়ার পরিমাণ বিবেচনায় নিলে এসব পাত্রে রান্না করা ভাত থেকে একটি শিশু দৈনিক সিসা গ্রহণের ক্ষেত্রে এফডিএর নির্ধারিত মাত্রার পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, পুরোনো স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে স্থানীয়ভাবে রান্নার পাত্র তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা না করায় এ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সিসার রং, গন্ধ বা স্বাদ নেই। ফলে দেখতে চকচকে নতুন পাত্রও যে নিরাপদ, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

আইসিডিডিআর,বির এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ বিভাগের সহকারী বিজ্ঞানী ড. জেসমিন সুলতানা বলেন, খাবার তৈরিতে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তার দিক থেকে পরীক্ষিত পাত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন। স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে পাত্র ঘষা এবং তাতে টক বা অম্লীয় খাবার রান্না এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এসব সতর্কতা দূষিত পাত্রকে পুরোপুরি নিরাপদ করে না।

গবেষকদের মতে, এ ঝুঁকি কমাতে শুধু পরিবারকে সচেতন করলেই হবে না। রান্নার পাত্র তৈরির কাঁচামাল পরীক্ষা, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তৈরি পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আইসিডিডিআর,বির ওই প্রকল্পের সমন্বয়ক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নিরাপত্তা মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য বিএসটিআইকে সিসা-সংক্রান্ত নিরাপত্তা মান তৈরি ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, সাশ্রয়ী দামের রান্নার পাত্র মানেই অনিরাপদ পাত্র হওয়া উচিত নয়।

স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...