প্রেমিক-প্রেমিকাই নয়, একাকিত্ব ঘোচাতে ভাড়ায় মিলছে সন্তানও

প্রবীণদের একাকিত্বের পেছনে চীনের সামাজিক কাঠামোরও ভূমিকা রয়েছে। কলেজের পড়াশোনা শেষ করে অনেক তরুণ চাকরির সন্ধানে অন্য শহর বা এলাকায় চলে যান। তাদের অনেকে পরিবার ছেড়ে কর্মস্থলের কাছাকাছি বসবাস শুরু করেন। ফলে বাড়িতে একা থেকে যান বয়স্ক মা-বাবারা।
এই পরিস্থিতিতে প্রবীণদের নিঃসঙ্গতাকে ঘিরে চীনে গড়ে উঠেছে নতুন এক অর্থনৈতিক খাত। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘একাকিত্বের অর্থনীতি’। এই খাতের আওতায় অর্থের বিনিময়ে ‘নকল সন্তান’ ভাড়া করছেন প্রবীণেরা। নিঃসঙ্গ জীবনে কথা বলার মতো একজন মানুষ পেতেই তারা এই সেবা নিচ্ছেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর ভাড়া করলেন সন্তান
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বাসিন্দা ইয়াংয়ের বয়স ৯১ বছর। সম্প্রতি তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে একাকিত্ব এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে, ছেলের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন পযর্ন্ত করেছিলেন তিনি। গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ায় দিন দিন তার দৃষ্টিশক্তিও কমে আসছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে ইয়াং জানান, ঘরের নীরবতা তাকে যেন গ্রাস করত। কথা বলার কেউ না থাকায় মাঝেমধ্যে টেলিভিমনের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি।
ইয়াংয়ের ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে মাকে দেখতে আসনে। ফলে সময়ের সঙ্গে ইয়াংয়ের নিঃসঙ্গতা আরও বেড়েছে। একপর্যায়ে সঙ্গী পাওয়ার জন্য চীনের এই নতুন অর্থনীতির আশ্রয় নেন তিনি। অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করেন সন্তান।
শুধু ইয়াং নন, চীনে তার মতো হাজারো প্রবীণ মানুষ একই সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অনেকেই এখন অস্থায়ী বা ‘নকল’ সন্তান ভাড়া করছেন। এ ধরনের সেবা দিতে দেশটিতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
এই অস্থায়ী সন্তানেরা প্রবীণদের সঙ্গে শুধু গল্প করেই সময় কাটান না। সন্তানেরা মা-বাবার জন্য সাধারণত যে ধরনের দায়িত্ব পালন করেন, সেগুলোও করেন তারা। বিনিময়ে পান নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক। স্মার্টফোন ব্যবহার শেখানো, শৌচাগারের কল মেরামত, মুদিদোকানের বাজার করা কিংবা রান্না করে দেওয়ার মতো কাজও করেন তারা।

