ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৩৩, ধ্বংসস্তূপের নিচে অর্ধশতাধিক আটকে থাকার শঙ্কা জেলেনস্কির

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) জার্মানির রাজধানী বার্লিন সফরকালে তিনি এ ঘটনাকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ হামলা বলে উল্লেখ করেন।
সোমবার ও মঙ্গলবার ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। এর আগে সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের বিরল যুদ্ধবিরতি শেষ হয়। নতুন করে হামলার ফলে আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সম্মুখসারির কোমিশুভাখা গ্রামে রুশ বাহিনীর হামলায় একটি সাবেক স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হয়। ভবনটি প্রতি সোমবার মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘একটি হামলাতেই ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ আটকে থাকতে পারেন।’
তিনি এই হামলাকে চলমান যুদ্ধের অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের নিন্দা
ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
মিশনটির প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, ‘রুশ সশস্ত্র বাহিনী হয়তো জানত যে ওই গ্রামে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছিল, অথবা সেখানে কী ঘটছে তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পদক্ষেপও তারা নেয়নি।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই খেরসন অঞ্চলে কয়েক দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। এর ফলে বিরল এক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার খারকিভ শহরের একটি হাসপাতালে রাশিয়ার হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য স্থানে হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
১০-১১ নভেম্বর আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা
ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর আবুধাবিতে তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন পক্ষের মধ্যে এমন আলোচনা হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার বার্লিন সফরকালে জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠকের পথ তৈরি হবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই আলোচনার প্রক্রিয়া এবং আমাদের অন্যান্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেতৃপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পথ খুলে দেবে।’
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে আসছেন জেলেনস্কি। তবে পুতিন বারবার এমন বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার আন্তরিক আলোচনার কোনো লক্ষণ তিনি এখনো দেখছেন না।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার এখনই যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী শান্তিচুক্তি নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসা জরুরি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটতে দেখছি না।’

