বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
মোংলা বন্দরে ৪০৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীআসছে দৈনিক এশিয়া পোস্ট, ৬২ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিরোহিতের শূন্যের দিনে কোহলির বিশ্বরেকর্ডদ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপিপুত্র মিন্টুপারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি জোরালো হচ্ছে ইরানে, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে চাপ৫১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ প্রকাশসিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারীপ্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর কাল: এসআরবির বোমা ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড মাঠেঅভয়নগরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল হারলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতটা সীমিত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল হারলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতটা সীমিত হয়

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। সাধারণত এই নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা, নীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয়। নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা শেষ না হলেও আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রেসিডেন্টকে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করতে হয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কাটতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা কতটা সীমিত হবে?

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিআর) নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের পর আবারও কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেল দলটি। রিপাবলিকানদের জন্য এটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কি কমে যায়?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর। মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল পরাজিত হলেও প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হয় না কিংবা তার সাংবিধানিক ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।

প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা, নির্বাহী আদেশ জারি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। তবে নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের পদ ও নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকলেও তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ অনেক কঠিন হয়ে যায়।

আইন প্রণয়নে বড় বাধার মুখে পড়বেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাস করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট; উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। এরপর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়।

দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আইন আটকে যেতে পারে। করনীতি, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি ব্যয় এবং বাণিজ্যনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া রিপাবলিকানদের পক্ষে নতুন আইন পাস করা কঠিন হবে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত কোনো বিল ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি তাতে ভেটো দিতে পারেন। তবে সেই ভেটো অতিক্রম করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।

ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে দর-কষাকষি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন বাড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত বাড়াতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে তদন্ত ও নজরদারি।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন কমিটি সরকারি কর্মকর্তাদের তলব করতে, নথিপত্র চাইতে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুনানি আয়োজন করতে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি, সরকারি ব্যয়, বাণিজ্যনীতি, ইরান যুদ্ধ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়েও কংগ্রেসে তদন্তের আলোচনা রয়েছে। এপি ও এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট নেতারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিশংসনের মুখে পড়তে পারেন প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের রাজনৈতিক ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনতে পারে। তবে শুধু অভিশংসিত হলেই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে হয় না।

অভিশংসনের পর সিনেটে বিচারপ্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন ছাড়া প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেও সিনেটে দোষী সাব্যস্ত হননি।

এবার ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিধি পরিষদ চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া আলাদা বিষয়।

অর্থাৎ অভিশংসন শুরু করা সম্ভব হলেও এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া নিশ্চিত নয়।

বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিয়োগে বাধা

সিনেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত ও ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদন করা।

সিনেট ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ট্রাম্পের নতুন বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের পদ শূন্য হলে নতুন বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ ও বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার নেতৃত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...