দিল্লি যেন গ্যাস চেম্বার, বায়ু বায়ুদূষণ কমাতে 'কৃত্রিম বৃষ্টি'র পরিকল্পনা

সরকারের নানা একাধিক বিধিনিষেধ, তারপরেও শীতের শুরুতেই বায়ুদূষণের চেনা ছন্দে ফিরল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। মেঘলা আকাশ নয়, বরং বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকেছে গোটা শহর। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানী দিল্লির বায়ুর মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
গত ৩০ অক্টোবর শহরের ‘বায়ু গুণমান সূচক’ (AQI) ছিল মাত্র ৬০। কিন্তু ৫ নভেম্বরের সকালে তা একলাফে প্রায় ৪০০ ছুঁয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (সিপিসিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেট এলাকায় একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯৯।
তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছিল জাহাঙ্গিরপুরীতে। সেখানকার বায়ু সূচক পৌঁছেছে মারাত্মক ৪৫৯-এ। সমগ্র শহরের গড় AQI বর্তমানে ৩৬৭, যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ শ্রেণীর অন্তর্গত। পরিবেশবিদদের মতে, সূচক ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার অর্থ পরিস্থিতি ‘ভয়ানক’। আর তাতেই শঙ্কার মেঘ জমছে শহরবাসীর মনে।
ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিরোধীদের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রা আজ
সামনেই দীপাবলি, যার ঠিক পরপরই প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে (পাঞ্জাব ও হরিয়ানা) শুরু হবে দেদার 'নাড়া' বা ফসলের গোড়া (পরালি) পোড়ানো। উৎসবের বাজি এবং নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি কোন চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন দিল্লিবাসী। এখনই সরকারের তরফ থেকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গোটা শহর যে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনো সন্দেহ নেই।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীপাবলির আগেই সক্রিয় হয়েছে দিল্লি সরকার। নির্দেশ জারি করা হয়েছে— 'BS-VI' স্ট্যান্ডার্ডের নিচের কোনো যানবাহনকে বাইরে থেকে দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সমস্যার সমাধান তো হয়ইনি, বরং সীমানা অঞ্চলগুলিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। ঘণ্টর পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ছে, যার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া বেড়ে গিয়ে উল্টো দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ, আটক শতাধিক
এদিকে, দূষণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। পাঞ্জাবে দেদার নাড়া পোড়ানোর জন্যই দিল্লি আজ ধুঁকছে বলে, সরাসরি তোপ দেগেছেন দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা। এমনকি তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সরকারের বিরুদ্ধে দূষণ সংক্রান্ত তথ্য গোপনের মারাত্মক অভিযোগও এনেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে 'গ্র্যাপ-২' (GRAP-II) বা গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দীপাবলি ও ছটপুজোর পর দূষণ কমাতে 'কৃত্রিম বৃষ্টি' (Cloud Seeding) নামানোর পরিকল্পনা করছে দিল্লি সরকার।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ১৫ দিনে দিল্লি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকাসহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃত্রিম বৃষ্টির মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর ১০ হাজার মিটার উচ্চতায় এই পরীক্ষা করা হলেও, এবার প্রায় ৩০ হাজার মিটার উচ্চতায় মেঘের মধ্যে রাসায়নিক কণা ছড়িয়ে বৃষ্টি নামানোর এই আধুনিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

