ভূতের ফ্যাশন, না ফ্যাশনের ভূত

বাংলার ভূতসমাজে ব্রহ্মদৈত্যকে বলা যায় অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি। ফলে তার পোশাকও তেমনই। মূলত ধুতি। অনেকে আবার রাতের বেলা কাঠের খড়মের শব্দ শুনে মনে করেন, ব্রহ্মদৈত্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে বোঝা যায়, সেটিও তার পরিচ্ছদেরই অনুষঙ্গ।

লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘ঘুঘুডাঙার ব্রহ্মদৈত্য’ গল্পে এই ভূতের সাজসজ্জার একটি চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে চরিত্রটির পরনে খাটো ধুতি, গায়ে কোনো জামা নেই, বুকে পইতা এবং পায়ে খড়ম।

শাকচুন্নি বাংলার পরিচিত নারী ভূত। বিভিন্ন বর্ণনায় একে সধবা ভূত বলা হয়। অর্থাৎ স্বামী জীবিত থাকতেই মারা যাওয়া অতৃপ্ত নারী হয়ে যায় শাকচুন্নি। ফলে তার পোশাকে বিবাহিত নারীর ছাপ স্পষ্ট। এদের শরীর সাধারণত অপুষ্ট। গায়ের রং সবুজ বা ফ্যাকাশে। আর পরনে থাকে সাদা বা লাল শাড়ি অথবা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি। কোনো কোনো বর্ণনায় তার হাতে শাঁখা-পলা, সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে লাল টিপ আর পায়ে নূপুরের কথাও বলা হয়েছে। আরেকটি পরিচিত ভূত হলো স্কন্ধকাটা বা কবন্ধ কাটা। এই ভূতের পরনে শুধু ধুতি দেখা যায়। আবার কোনো কোনো গল্পে তার পরনে সাহেবি পোশাকের কথাও জানা যায়।

