রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
পল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহতসিআইডির সাবেক প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহতকেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহচীন বিতর্কে মরিনহোর সমর্থন পেলেন এমবাপ্পেস্পেনে লুটপাটের আশঙ্কায় শপিং মল-দোকানের কাচ ঢেকে দিলেন ব্যবসায়ীরালংমার্চ থেকে ফেরা বাসচাপায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত অর্ধশতইতিহাদে ব্রাইটনের ইতিহাস, টানা দ্বিতীয় হার সিটিরদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রীবনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ান্সের বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনারদাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমির
বিজ্ঞাপন

আলমডাঙ্গায় বাড়িতে সশস্ত্র হামলা: ধাওয়া করে যুবককে গণপিটুনি, পুলিশি হেফাজত নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
আলমডাঙ্গায় বাড়িতে সশস্ত্র হামলা: ধাওয়া করে যুবককে গণপিটুনি, পুলিশি হেফাজত নিয়ে প্রশ্ন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাবিলনগর গ্রামে গভীর রাতে এক ব্যক্তির বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়ির লোকজনের আর্তচিৎকারে দুই গ্রামের বাসিন্দারা ধাওয়া করে পার্শ্ববর্তী রায়সা গ্রাম থেকে সজিব (২৫) নামের এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে ওই যুবকের মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে নিজেদের হেফাজতে না নিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের কাবিলনগর গ্রামের মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা মতিয়ার আলীর ছেলে হায়াত আলীর বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

দরজা ভাঙার চেষ্টা ও ধাওয়ার মুখে পলায়ন

ভুক্তভোগী হায়াত আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে। তারা মূল ফটকে এসে হায়াত আলীর নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করে এবং দরজা খোলার নির্দেশ দেয়। দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গুলি চালিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং বারান্দার লোহার গেটটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হায়াত আলীর ছেলে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। গ্রামবাসী জড়ো হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী রায়সা গ্রামের দিকে ছুটতে থাকে।

আটকের পর গণপিটুনি ও পুলিশের পদক্ষেপ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবিলনগরের বাসিন্দাদের সঙ্গে রায়সা গ্রামের মানুষও ধাওয়ায় শামিল হন। একপর্যায়ে রায়সা গ্রামের লোকজন সজিবকে ধরে ফেলেন। ক্ষুব্ধ জনতার মারধরে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আটক সজিব ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফতেপুর গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে খাসকররা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পীযূষ সাহ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রায়সা গ্রামে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় সজিবকে দেখতে পান।

এ বিষয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পীযূষ সাহ জানান, ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় সজিবকে পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো ও আইনগত প্রক্রিয়ার স্বার্থে উপস্থিত গ্রামবাসীর কাছে তিনজন সাক্ষী বা সহযোগী চেয়েছিলেন। তবে গ্রামবাসী এতে সম্মতি না দেওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে পরামর্শ করে সজিবকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

তবে ডাকাতির চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া একজন ব্যক্তিকে পুলিশ কেন নিজেদের হেফাজতে নিল না কিংবা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নেপথ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ

এদিকে এই ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন হায়াত আলী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে একটি অচেনা মুঠোফোন নম্বর (+৮৮০১৬৪৬৭৯০০৭২) থেকে রুবেল পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাকে ফোন দেন। ফোনে জমির বায়না বাবদ নেওয়া সাড়ে আট লাখ টাকা মো. জহুরুলকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। টাকা ফেরত না দিলে তাকে হত্যা ও বাড়িঘর লুটপাটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

হায়াত আলীর অভিযোগ, সেই হুমকির পরদিনই সশস্ত্র দলটি তার বাড়িতে গভীর রাতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

রাতের আঁধারে একটি বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে হুমকি ও গেট ভাঙার চেষ্টা এবং পরবর্তী সময়ে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় গণপিটুনির ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন চাপা আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তেমনি আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না কিংবা জড়িত অন্য কাউকে শনাক্তে অভিযান চলছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট অপর পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আঞ্চলিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...