আন্দোলনে পোশাকশ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে কারা, নজরদারিতে পুলিশ

নজরদারিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার মো. ওহাব খানের ছেলে মো. আজিজুল খান এবং ঘোষবাগ এলাকার মৃত আশেক আলী মোল্লার মেয়ে আসমা আক্তার। আরও আছেন নিশ্চিন্তপুর এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে লিপি আক্তার, একই এলাকার রাসেল এবং সিরাজ গ্রামের মো. আব্দুল কালামের ছেলে মো. আল আমিন। তালিকায় কুষ্টিয়ার ঈশানপুর এলাকার মো. আব্দুল রহিমের মেয়ে মোছা. সেলিনা খাতুনও আছেন। কেয়া গ্রুপের শ্রমিক আসমা আক্তার আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গার্মেন্টসে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের আড়ালে শ্রমিকদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এসবের পেছনে ইন্ধন জোগাচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। আগামী ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ‘সম্মানজনকভাবে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিস্থিতি’ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ চালাচ্ছেন তারা। এমনকি বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্রশাসনকে কঠোর হতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পোশাকশ্রমিকদের এবারের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় আশুলিয়া থেকে। গত শনিবার সকাল ৮টার পর কাঠগড়া, আমতলা ও নয়াপাড়া এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়। প্রথমে নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।
এক পর্যায়ে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের মতো এসব এলাকায় রাস্তায় নামে শ্রমিকরা। তাদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। মিরপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে শিল্প পুলিশ।
মজুরি বোর্ড গঠন হলেও আন্দোলন থামেনি। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন কারখানা বন্ধ হচ্ছে। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে গত সোমবার পর্যন্ত ৭০০ কারখানা বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৬২টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরবেন বলে তারা আশা করছেন। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে সেটিকে ভিন্ন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

