ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের জায়গা: ফজলুর রহমান

তিনি বলেন, ‘যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে শিক্ষায় মুক্তি, সেই ১৯২৭ সন, ১৯২৮ সন, ১৯২৯ সন, ১৯৩০ সন, আব্দুল ওহাব, আবুল হোসেনসহ সমস্ত কবি-সাহিত্যিক যারা ছিল। তাদের জন্ম দিয়েছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে সেই মুজাফর আহমদ চৌধুরীদের মতো লোক। নীলিমা ইব্রাহিমদের মতো লোক, ড. নাজমা চৌধুরীর মতো লোক। যত আছে সেই আহমদ শরীফদের মতো লোক হুমায়ন আজাদদের মতো লোক, হুমায়ন আহমদদের মতো লোক।’
স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের একটা কারখানা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসারি করার? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আজম, নিজামীর ছবি টাঙানো হয়, এরাই নাকি জাতির নেতা। সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তো চিন্তাই করি না আমি।’
দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করতে পারতাম, যদি সেই বাঙালি জাতি একদিন মনে করত, আমাদের নেতার নাম ছিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। আমাদের নেতার নাম ছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। আমাদের নেতার নাম ছিল নেতাজি সুভাষ বোস। আমাদের শহীদের নাম ছিল ক্ষুদিরাম, আমাদের শহীদের নাম ছিল সূর্য সেন।’
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যদি একবার মনে করতে পারতাম, আমাদের ভাষা আন্দোলনের শহীদ, মা বলার স্বীকৃতি যারা দিয়ে গেলেন, তাদের নাম ছিল বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার। যদি আজও মনে করতে পারেন, এই যে বাঙালির ছেলেরা, যাদের ভীরু বাঙালি বলা হয়, ’৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলো, সেদিন যারা বাবাকে-মাকে কাঁদিয়ে, বাবার বাহুবন্ধন উপেক্ষা করে কেউ গিয়েছিলাম ত্রিপুরার পাহাড়ে, কেউ গিয়েছিলাম মেঘালয়ের পাহাড়ে, কেউ গিয়েছিলাম কলকাতা, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে।’

