জুলাইয়ে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম হত্যা মামলার আসামি এখন চট্টগ্রাম এনসিপির শীর্ষ নেতা

নুরুজ্জামান এই মামলার পঞ্চম তদন্ত কর্মকর্তা। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় এখন পর্যন্ত ১৪০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের অনেক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের অব্যাহতি দিতে বাদীর পক্ষ থেকে সুপারিশের ঘটনা ঘটেছে। এই মামলায় এ ধরনের কোনো আবেদন আদালতে জমা পড়েছে? এমন প্রশ্নে নুরুজ্জামান বলেন, ‘না এই ধরনের কোনো আবেদন দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত কেউ মামলা থেকে বাদ গেছেন, এমন হয়নি এখন পর্যন্ত।’
তদন্ত প্রতিবেদন কবে নাগাদ জমা দেওয়া হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। ফরেনসিকের কিছু কাজ আছে। শেষ হলে দিয়ে দেব।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে একেএম জিয়াউদ্দিন শুরুতে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছে।’ পরে মামলার চার্জশিট এখনও হয়নি জানালে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের সময় এসব নিয়ে কি আইন হয়েছিল না। সেগুলোতে আমি বাদ গেছি। আমার আইনজীবী এই বিষয়ে জানে।’
একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন আমি এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছি। নিশ্চিত হলে আপনি লিখে দেন। এর পরে আমার যা করার আমি তা করব। আপনার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে আমি ইন্টারেস্টেড না। বাধ্যও না।’
চট্টগ্রামে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছে, কমিটিতে আসার আগে একেএম জিয়া উদ্দিন ওরফে জিয়া রনি দলীয় সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাদের জানা নেই।
২০২৬ সালের ১৪ মে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবুল হাসনাত। অনুমোদিত কমিটির ‘যুগ্ম আহ্বায়ক’ তালিকায় ‘জিয়া রনি’র নাম রয়েছে।
কমিটির প্রথম পাতায় আহ্বায়ক, দুই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৫ যুগ্ম আহ্বায়কের নাম আছে। বাকি সবার পূর্ণ নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকলেও জিয়া রনির নামের পাশে কোনো নম্বর নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একজন নেতা বলেন, ‘ওই কমিটির তালিকা দেখলেই বোঝা যায় শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে তার নামটা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাকে সেভাবে চিনতামও না। বোঝাই যাচ্ছে এটি একটি পুনর্বাসন পোস্ট।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলা ও পুলিশের নথিতে সাবেক যুবলীগ সমর্থক ও হত্যা মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত একেএম জিয়াউদ্দিনই এনসিপির কমিটির জিয়া রনি।
ওয়াসিম হত্যা মামলা নিয়ে কথা হয় শহীদের বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদেরকে সবাই বলির পাঁঠা বানিয়েছে। কতজন কতভাবে যে আমাদের নিয়ে ব্যবসা করেছে। কতভাবে প্রতারণা করেছে। এগুলো নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। শুধু এটুকু বলব, আমার ছেলের হত্যার বিচারটা যেন ঠিকভাবে হয়। যারা দোষী না তাদের হয়রানি যেন না করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘একবার ঢাকা যাওয়ার পর একজন পথে এনসিপির অফিস দেখাল। ভাবলাম আমার ছেলের জন্য তারা এত কিছু করেছে। একটু দেখা করে আসি। সেটার ভিডিও করে তারা প্রচার করেছে আমি এনসিপিতে যোগ দিয়েছি। অথচ আমি কোনো দলের বিষয়ে আগ্রহী না। এলাকার সন্তান হিসেবে সালাউদ্দিন আহমেদের প্রতি ভালোবাসা আছে। এর বেশি কিছু না। ওদের নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘রাজপথে জুলাইয়ের প্রথম দিকের একজন শহীদ ছাত্রদলের ওয়াসিম। সেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটা একজনকে দলীয় পদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এনসিপি জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করল। অথচ তারা দাবি করে জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার তারা। এনসিপির শীর্ষ নেতারা এই বিষয়ে জাতিকে ব্যাখ্যা দেবে এটাই আমাদের দাবি।’

