সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বরিশালে ছয় রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরাপুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনেররায়েরবাগে দুই গাড়ির প্রতিযোগিতার বলি মোটরসাইকেল আরোহীপুরোনো বাণিজ্য মেলার ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে ফিরলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরাআগৈলঝাড়ায় ৩২ গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক বিতরণনাস্তার প্রলোভনে বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, গণপিটুনির পর অভিযুক্ত গ্রেপ্তারহাম ও উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যুব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু, চালকদের লাইসেন্স ও ভাড়া নিয়ে যে তথ্য জানালেন প্রতিমন্ত্রীজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটকসেরা অবস্থানে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ কোথায়
বিজ্ঞাপন

ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশের টান, বাজারে চড়া দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশের টান, বাজারে চড়া দাম

ইলিশের মৌসুম চলছে। কিন্তু নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ না থাকায় হতাশ জেলেরা। এর প্রভাব পড়েছে বাজারেও। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে বর্তমানে গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ একই অর্থে বাজার থেকে আড়াই থেকে তিন মণ পর্যন্ত আলু কেনা সম্ভব। ফলে অনেকের কাছে জাতীয় মাছ ইলিশ এখন নিয়মিত খাবারের বদলে বিশেষ উপলক্ষের খাবারে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ, একলাশপুর ও বাবুবাজারের মাছের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম বেশ চড়া। আড়তগুলোতে বড় আকারের ইলিশের সরবরাহও তুলনামূলক কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম উঠছে আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি।

আমিরাবাদ আড়তের ব্যবসায়ী জুয়েল মীর বলেন, নদী থেকে ইলিশ আসছে কম। আড়তে মাছের পরিমাণ কম থাকলেও বাজারে চাহিদা রয়েছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধানের কারণে দাম বেড়েছে।

নদীতে জাল ফেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ

বাজারের পাশাপাশি নদীতেও ইলিশের সংকটের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলেদের ভাষ্য, আগের মতো জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করেও আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি, বরফ ও খাবারসহ প্রতিদিনের খরচ ঠিকই করতে হচ্ছে। মাছ কম পাওয়ায় অনেক জেলেই লোকসানে পড়ছেন।

ষাটনল জেলে পাড়ার টিটু বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মন বলেন, নদীতে মাছ কম থাকায় তাঁদের আয়ও কমে গেছে। কোনো দিন জালে মাছ উঠে, আবার কোনো দিন জ্বালানির খরচও ওঠে না।

তাঁদের ভাষ্য, মাছ ধরার ওপরই তাঁদের সংসার চলে। মাছ কম পাওয়ায় কিস্তি ও মহাজনের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে সমস্যা হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে বলেও জানান তাঁরা।

ইলিশের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ

বাজারে ইলিশের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। তাঁদের মতে, বর্তমান দামে নিয়মিত ইলিশ কেনা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব নয়।

আনোয়ার হাবিব নামে এক ক্রেতা বলেন, এক কেজি ইলিশের দাম যদি আড়াই হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের পক্ষে ইলিশ কেনা কঠিন। একই টাকায় বেশ কয়েক কেজি আলু কিংবা অন্য মাছ কেনা যায়।

সরবরাহ বাড়লে দাম কমার আশা

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেই বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে কবে নাগাদ নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তাঁরা।

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, নদীতে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ বাড়লে বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। তখন ইলিশের দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...