বি. এন. খান কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার অভিযোগ হিন্দু পরিবারের

অমল চন্দ্রের অভিযোগ, সাক্ষ্য গ্রহণের আগেই জমিটি দখলে নিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে কলেজের লোকজন জমিতে থাকা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। তখন বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর জমি দখলের চেষ্টা হলে উজিরপুর থানায় জিডি করা হয়েছিল।
বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য সঞ্জয় চন্দ্র দাস বলেন, ১৯৫৯ সাল থেকে আমার দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাস সাফকবলা দলিল অনুসারে এ জমির মালিক। বি. এন. খান ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই। কলেজ প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর আগে থেকেই তাঁদের দাস পরিবার এ জমির মালিক। তিনি আরও বলেন, তাঁর দাদার বাবা প্রশন্ন কুমার দাস ১৯৪৫ সালের আগে উজিরপুরের জমিদার ছিলেন। সেই জমিদার এস্টেটের অংশীদার দাদা নারায়ণ চন্দ্র।
সঞ্জয় চন্দ্র জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ যেন তাঁদের জায়গা দখল না করে, এ দাবিতে তিনি এবং তাঁর চাচারা মঙ্গলবার বরিশাল নগরের টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছেন। একই দিন জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।
বি. এন. খান কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই জমি তাঁদের দখলেই রয়েছে। বিএস পর্চা অনুযায়ী কলেজের নামে এবং নিয়মিত খাজনা দিচ্ছেন। প্রতিপক্ষরা দাবি করছে, তাঁদের কাছেও নাকি একটি দলিল রয়েছে। তাঁরা আদালতে মামলা করেছেন। আদালত যে রায় দেবেন, তা মেনে নেবেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেছেন, হিন্দু পরিবারটি প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগ দিয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইউএনও আলী সুজা আরও বলেন, তিনি এ নিয়ে থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুকুর আর জমির অবস্থা যাতে স্থিতিশীল থাকে, সে বিষয়ে বলা হয়েছে। তাঁর জানামতে, পুকুরটি কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়েছিল। ইউএনও বলেন, জবরদখল করা চলবে না। আদালত যে আদেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী চলতে হবে।

