বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
৪০ দিনে কোরআন লিখে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিল ৯ বছরের অরিনাভুয়া গ্রাহক সাজিয়ে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা লোপাট কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তারভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশেরমালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সব এজেন্সির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকারআখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, দ্রুত মামলা নেওয়ার দাবি জামায়াত আমিরেরমানিক পশারীর দাফনে বাধা: সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনখুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীরসৌদির তাবুকে ৯৪ হাজার টন জলপাই থেকে মিলবে প্রায় ১২ হাজার টন অলিভ অয়েল‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতা সাদিকুল রিমান্ডেফরিদপুরে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বিজ্ঞাপন

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে রাতে জ্বলে না আলো, থাকে না পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে রাতে জ্বলে না আলো, থাকে না পুলিশ

মেহেরপুরের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স। অথচ ঐতিহাসিক এই স্মৃতিসৌধ এখন অযত্ন, অবহেলা আর ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত। শহীদদের স্মরণে নির্মিত মূল স্মৃতিসৌধের চারপাশে জ্বলছে না কোনো বৈদ্যুতিক বাতি। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে আশপাশের সোলার লাইটগুলোও। ভাঙচুরের ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তার উদ্বেগ।

প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সেখানে পুলিশের স্থায়ী ডিউটি থাকার কথা। কিন্তু সরেজমিনে একাধিক দফায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও কোনো পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে অন্ধকারের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে আনসার সদস্যদের।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। শুধু রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নয়, একই রাতে দ্বিতীয় দফায় রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থান করেও কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

অথচ স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে সার্বক্ষণিক দুজন আনসার সদস্যের পাশাপাশি দিনে পুলিশের টহল এবং রাতে দুজন পুলিশ সদস্যের স্থায়ী ডিউটির ব্যবস্থা থাকার কথা। সরেজমিনে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও নির্ধারিত পুলিশ সদস্যদের পাওয়া যায়নি। স্মৃতিসৌধ এলাকায় এমন অন্ধকার পরিস্থিতি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা সোলার লাইট দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো সচল করার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। মূল স্মৃতিসৌধের চারপাশেও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলায় পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় স্মৃতিচিহ্নের এমন অবস্থা শুধু দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে না, স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপায়ন দেব এশিয়া পোস্টকে বলেন, স্মৃতিসৌধে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি ডিউটি পোস্ট স্থাপন এবং আশপাশের বৈদ্যুতিক বাতি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেখব, সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক বাতি না থাকলে দ্রুত তা স্থাপনের উদ্যোগ নেব।

অন্যদিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, দিনে ও রাতে সার্বক্ষণিক মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে পুলিশের ডিউটি থাকে। দিনে ডিউটিরত বিভিন্ন পার্টি সেখানে টহল দেয়। আর রাতে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভেতরে পুলিশের স্থায়ী ডিউটি রয়েছে।

তবে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও সরেজমিনে নির্ধারিত সময়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই রাতে দুই দফায় কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেও পুলিশের কাউকে দায়িত্ব পালন করতে না দেখায় বাস্তবে নিরাপত্তাব্যবস্থার তদারকি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...