খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা দ্রুত চালু করে এ অঞ্চলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দেশের মিল-কলকারখানা অর্থনীতির প্রাণ। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিতে না থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অনুরোধে তিনি এ পথসভায় যোগ দেন।
বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে তাকে বহনকারী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাসটি ডাকবাংলা মোড়ে পৌঁছালে খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন তাকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী বাস থেকে নেমে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে নির্মিত মঞ্চে বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলার প্রসার ঘটিয়ে দেশের প্রতিটি স্তরে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, এক যুগ ধরে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া স্বৈরাচারী শক্তিকে এ দেশের মানুষ বিতাড়িত করেছিল। যারা অতীতে লুটপাটের রাজনীতি করেছে, তারা আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে গণতন্ত্রকামী মানুষ যেভাবে স্বৈরাচার বিতাড়িত করেছিল, সেই অপশক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলছে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশের মানুষের স্বার্থে যে যাত্রা শুরু হয়েছে, কোনো চক্রান্তের কাছে তা মাথানত করবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শিল্পকারখানা বন্ধের চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিল-কলকারখানা দেশের ও অর্থনীতির প্রাণ। এখানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তারা এখন দেশের অর্থনীতিকেও পঙ্গু করতে চায়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের এ চেষ্টা নস্যাৎ করা হবে।
এর আগে বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬–২০২৭’ (সিজন-২)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

