বিক্ষোভে উত্তাল প্যারাগুয়ে, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি

তবে প্যারাগুয়ের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই পেনার ক্ষমতাসীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখায় প্রস্তাবটি পাস হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানী আসুনসিওনসহ বিভিন্ন শহরের উয়েনো ব্যাংক শাখাগুলোর সামনে টাকা তোলার জন্য গত দুই দিন ধরে আমানতকারীদের উপচে পড়া দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। শত শত হতাশ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন। ৬৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী মার্সেলিনো ভারগারা অশ্রুসিক্ত চোখে এএফপি-কে বলেন, ‘আমি আমার সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছি।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে ও জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রেসিডেন্ট পেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেছেন, দেশের ‘আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ মজবুত’ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়কারীরা যাতে দ্রুত নিজেদের অর্থ ফেরত পান, সেজন্য একটি জরুরি আইন প্রণয়ন করেছেন পেনা। এই আইনের আওতায় গ্যারান্টি তহবিল থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।
উয়েনো ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা ৩০ লাখের বেশি, যা প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। প্রতিষ্ঠানটি লাখ লাখ ডলারের পেনশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তহবিলও পরিচালনা করে থাকে। তীব্র মূলধন ঘাটতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে ব্যাংকটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই কেলেঙ্কারির জেরে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের বিশেষ অনুরোধে পদত্যাগ করেছেন প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট কার্লোস কারভালো। তিনি অতীতে উয়েনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে উয়েনো ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মিগেল ভাজকেজসহ আটজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান মিগেল ভাজকেজ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

