তিন বছরে ৫ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরাও

নির্দেশিকা অনুযায়ী, এসব প্রশিক্ষণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের এক বা একাধিক দেশে পরিচালনা করতে হবে। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো, ইতালির শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের দক্ষ করে তোলা।
প্রশিক্ষণে ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি দেশটির সংবিধানের মৌলিক নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রম এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। ভাষা প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের কমপক্ষে (এ১ পর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
পেশাগত প্রশিক্ষণে নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার, সংশ্লিষ্ট পেশার পরিভাষা এবং চাকরি খোঁজার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে কোনো ফি নেওয়া যাবে না
ইতালির নির্দেশিকায় প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক বা ফি দাবি করতে পারবে না।
প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কোন পেশায় কতজন কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কোন খাতে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, তা আগেই নির্ধারণ করতে হবে।
এ ছাড়া ইতালীয় নিয়োগকর্তা ও কোম্পানিগুলোর সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ, কর্মসংস্থান চুক্তির শর্ত এবং ইটালিতে প্রবেশের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ও নির্বাচিত ব্যক্তিদের তালিকা ইটালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
এসব প্রকল্পের প্রস্তাব ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, অভিবাসন ও সংহতি নীতিবিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা দিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিশন প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন ও অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে।

