মাত্র ১০ ঘণ্টায় মেসিকে ছাড়ালেন রোনালদো

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই কিংবদন্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন থামার নয়। পর্তুগালের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিয়ে এবার আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ছাড়িয়ে গেলেন রোনালদো।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা তার বিদায়ী ভিডিওতে লাইক পড়েছে মেসির আন্তর্জাতিক অবসরের পোস্টের চেয়েও বেশি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই কীর্তি গড়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী ফুটবলার। দুই কিংবদন্তির বিদায়ের আবেগ যেন নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইনস্টাগ্রামে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি সতীর্থ, পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই ২ কোটি ৬০ লাখ লাইক পান রোনালদো। অথচ গত ৩১ আগস্ট মেসির প্রকাশ করা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পোস্টে তখন লাইক ছিল প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ।

অর্থাৎ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই মাসের বেশি সময় আগে প্রকাশিত মেসির বিদায়ী পোস্টকে ছাড়িয়ে যান রোনালদো।
এরপরও থেমে থাকেনি সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া। মেক্সিকোর ফক্স স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই রোনালদোর ভিডিওতে লাইক ছাড়িয়ে যায় ৩ কোটি ৮ লাখ। একই সময়ে মেসির পোস্টে ছিল প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ লাইক। দুই মহাতারকার বিদায়ী পোস্টের ব্যবধান তখনই দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, রোনালদোর ভিডিওতে লাইক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ। মন্তব্য এসেছে ৩২ লাখের বেশি এবং শেয়ার বা রিপোস্ট হয়েছে প্রায় ৬২ লাখ বার। ভিডিওটির ভিউও ছাড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৫০ লাখ।
অন্যদিকে মেসির বিদায়ী পোস্টে তখন লাইক ছিল প্রায় ২ কোটি, মন্তব্য ৮ লাখ ৯২ হাজার এবং শেয়ার বা রিপোস্ট প্রায় ২৬ লাখ। গালফ নিউজের দেওয়া হিসাবে ভিডিও দেখার সংখ্যায় তখনও কিছুটা এগিয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার বিদায়ী পোস্টে ভিউ ছিল ৪৬ কোটির বেশি।
তবে সময়ের সঙ্গে রোনালদোর ভিডিওর দর্শকসংখ্যাও বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে আরব সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পর্তুগিজ তারকার পোস্টে লাইক পৌঁছেছে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখে। একই সঙ্গে ভিডিওটির ভিউ ছাড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ।
ফলে শুধু লাইক নয়, ভিডিও দেখার সংখ্যাতেও আরও বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে রোনালদোর বিদায়ী বার্তা। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেওয়া হিসাবগুলো আলাদা সময়ে সংগ্রহ করা।
অবশ্য রোনালদোর এই অর্জনকে ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া পোস্টের নতুন বিশ্বরেকর্ড বলা যাবে না। সেই কীর্তি এখনো মেসির বিশ্বকাপজয়ী পোস্টের দখলেই রয়েছে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি হাতে উদ্যাপনের কয়েকটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছিলেন মেসি। সেই পোস্টে সাত কোটির বেশি লাইক পড়েছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ২০২৩ সালের ২৪ মার্চ পোস্টটির লাইক সংখ্যা ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৭ বলে নিশ্চিত করেছিল।
দুই ফুটবলারের বিদায়ের ধরনও ছিল আলাদা। গত ৩১ আগস্ট নিজের হাতে লেখা একটি আবেগঘন চিঠির ছবি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন মেসি। এরপর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে শেষবারের মতো দেশের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি।
সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তাও করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে রোনালদো বেছে নিয়েছেন ভিডিওবার্তা। পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি। সেই ভিডিওতে জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে বলেও উল্লেখ করেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড নিয়েই বিদায় নিয়েছেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন ২০১৬ সালের ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগ।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করেছেন মেসি। তার নেতৃত্বে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ছাড়াও দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা।
রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় খেলার সময় দুই মহাতারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিল প্রায় এক যুগ। গোল, অ্যাসিস্ট, শিরোপা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পুরস্কার, সবকিছুতেই চলেছে তাঁদের তুলনা।
এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের মুহূর্তও সেই তুলনার বাইরে থাকল না। জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন দুজনই। আর ইনস্টাগ্রামে মেসির বিদায়ী পোস্টকে ছাড়িয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন রোনালদো।

