প্রয়োজনের অর্ধেক শিক্ষক সরকারি মেডিকেলে

নিয়োগ ও পদায়নের উদ্যোগ
গত দুই বছরে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতি হয়েছে। তবে এসব পদোন্নতির বড় অংশই নিয়মিত শূন্য পদের বিপরীতে না হয়ে অতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) পদ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মেডিকেল কলেজগুলোর নিয়মিত শূন্য পদ পূরণ হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের অক্টোবরে গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগে ৫৯৯ জন চিকিৎসককে সুপারনিউমারারি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলা যায়।
একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর ১২১ জন সহযোগী অধ্যাপককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১১০ জন সুপারনিউমারারি এবং ৪ জন নিয়মিত পদে পদোন্নতি পান।
স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, কলেজগুলোর শিক্ষকের প্রকৃত চাহিদা অনুমোদিত পদের তিন গুণের বেশি। এর একটি উদাহরণ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ। ১৯৯২ সালে ৫০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পেলেও বর্তমানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। অথচ ১৮৮টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৩ জন।
স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের বড় কারণ শিক্ষকদের অসম বণ্টন। পদোন্নতি পাওয়া অনেক শিক্ষক এখনো নতুন পদে দায়িত্ব পাননি। তাঁদের কেউ আগের পদে (ইনসিটু), কেউ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে, আবার কেউ মেডিকেল কলেজের বাইরে কর্মরত। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কলেজে পদায়ন করা গেলে সংকট অনেকটাই কমবে।’
মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন জানান, মেডিকেল কলেজগুলো স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের অধীন হলেও শিক্ষকদের পদোন্নতি ও প্রথম পদায়নের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাতে। এ কারণে কলেজের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক পদায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

