রাশিয়ার দখলে ইউক্রেনের শত শত হোটেল—মামলা করলেন এক মালিক

রাশিয়ার অনুপস্থিতিতেই মামলার শুনানি চলে। আদালতে বিবাদী হিসেবে রাশিয়ার নাম ডাকা হলেও কেউ হাজির হয়নি। কাতিউখা বলেন, ‘আপাতত আমিই ভুক্তভোগী—বাতাসের সঙ্গে লড়াই করা এক ডন কিহোতে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রুশ ও ইউক্রেনীয় সম্পত্তিসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর আজভ সাগর উপকূলে শত শত হোটেল ও রিসোর্ট দখল করেছে রাশিয়া। অধিকৃত জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে সাত হাজারের বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তিকে ‘মালিকহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রুশ-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন। এর মধ্যে ৫২১টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। অন্তত ৭৭টি হোটেল ও রিসোর্ট এখন রুশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে ২০টি পরিচালনা করছে রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অংশে পরিণত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব সম্পত্তি দখল করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের জাতীয় নিরাপত্তা ফেলো কারোলিনা হির্ডের মতে, সম্পত্তি দখলের মাধ্যমে অঞ্চলগুলোর ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হচ্ছে এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থও আসছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, অধিকৃত অঞ্চলে নতুন সম্পত্তি আইন চালু করে মালিকানা কেড়ে নেওয়ার জন্য আইনি আড়াল তৈরি করছে রাশিয়া। এসব আইনে রুশ নাগরিকত্ব গ্রহণ না করলে ইউক্রেনীয়দের সম্পত্তির মালিকানা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের দাবি, যাঁরা চেয়েছেন, তাঁদের সম্পত্তি রুশ আইনে পুনর্নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা তা করেননি, তাঁদের সম্পত্তি মালিকহীন ঘোষণা করা হয়েছে।


