সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

অনাক্রমণ চুক্তি ও হুতিদের নিয়ন্ত্রণসহ তেহরানে যা আলোচিত হয়েছে ইরান–মক্কা জোটের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
অনাক্রমণ চুক্তি ও হুতিদের নিয়ন্ত্রণসহ তেহরানে যা আলোচিত হয়েছে ইরান–মক্কা জোটের মধ্যে

হুতিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে লড়াই বন্ধে সহায়তা করার আগ্রহ ইরান আগেও প্রকাশ করেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে সহায়তার প্রস্তাব দেন। তবে হুতিদের প্রধান সমর্থক হিসেবে ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য, কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিয়ে আসছে।

চলতি মাসে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের সহায়তায় হুতিরা সৌদি আরব ও ইয়েমেনে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক হামলাগুলো চালাতে সক্ষম হয়েছে।

‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি হুতিদের

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে গত জুলাইয়ে। সে সময় ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালানো হয়। হুতিরা এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে। তবে সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, অনুমতি ছাড়া একটি ইরানি বিমান যাতে অবতরণ করতে না পারে, সে জন্য রানওয়েকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।

এরপর সৌদি আরবের আরোপ করা আকাশসীমাসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে হুতিরা ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি ঘোষণা করে। তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর লোহিত সাগর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চাপ যত বেড়েছে, হুতিরা তত বেশি তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।

আঞ্চলিক অনাক্রমণ চুক্তি গঠনের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েল যখন সতর্ক করে দিচ্ছিল যে যেকোনো মুহূর্তে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে, তখন তেহরানে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল একটি আঞ্চলিক অনাক্রমণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, আলোচনাগুলো ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরান এবং মক্কা চুক্তির তিন অংশীদার দেশ একমত হয়েছে যে বাইরের শক্তির পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই নিজেদের অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বুধবার রেজায়ীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে দ্য ন্যাশনাল জানতে পেরেছে, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য ইরানবিরোধী হামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়নি।

বরং এর লক্ষ্য ছিল, আবারও যুদ্ধ শুরু হলে কোন নীতি অনুসরণ করা হবে এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা। এর মাধ্যমে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি উপসাগরীয় ছয়টি রাষ্ট্রের পাশাপাশি ইরান ও ইরাককে নিয়ে একটি অনাক্রমণভিত্তিক নিরাপত্তা চুক্তি গঠনের আহ্বান জানান। কেমব্রিজের গার্টন কলেজে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আর নিরাপত্তার প্রধান জোগানদাতা থাকবে না।

আগের সফরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন

প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সর্বশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে তেহরান সফর করেছিলেন। সে সময় অঞ্চলটি ভিন্ন ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় ছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা শুরুর আগে তিনি ইরানে পৌঁছান। ওই সফরে তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেন। ওই সফরের যথেষ্ট প্রতীকী গুরুত্ব ছিল।

তবে এবারের সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার চিত্র সামনে আসে। তেহরানে বৈঠক শেষ হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের জোট জানায়, তারা ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়া হয়েছিল।

একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয় বলে জোটটি জানায়। পরে রিয়াদের দিকে ছোড়া আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথাও জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

সব মিলিয়ে, তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের বৈঠকে সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মতি মিললেও হুতিদের হামলা বন্ধ বা সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হয়নি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...