সারের মজুত ও দাম যাচাইয়ে মাঠে নামছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব

সরকারি গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না বলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ উঠছে। কোথাও সারের সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রির খবর মিলছে, আবার কোথাও ডিলারদের গুদামে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সার। এই বাস্তবতায় কৃষকের ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয়, তা খতিয়ে দেখতে চুয়াডাঙ্গার মাঠে নামছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) আবু হেনা মো. মুস্তাফা কামাল।
নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার সন্তান আবু হেনা মো. মুস্তাফা কামাল আগামী শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা তিন দিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে পরিদর্শন করবেন। এই সময়ে তিনি স্থানীয় সার ডিলার, কৃষক এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও ডিলারদের দোকান ও গুদামের মজুত পরিস্থিতি যাচাই করবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. আসলাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার মাঠে টানা তিন দিনের কর্মসূচি
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছে জেলা ও সদর উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন যুগ্ম সচিব। একই দিন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা, ডিঙ্গেদহ ও সরোজগঞ্জ এলাকার সার ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তাদের দোকান ও গুদাম ঘুরে দেখবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জীবননগর উপজেলায় গিয়ে প্রশিক্ষণরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। পরে আন্দুলবাড়িয়ায় কৃষি উদ্যোক্তাদের গড়ে তোলা ফলবাগান পরিদর্শন এবং ডিলারদের সার বিক্রয়কেন্দ্র ও গুদাম যাচাই করবেন। ওই দিনই দামুড়হুদা উপজেলায় গিয়ে ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাদের গুদাম পরিদর্শনের সূচি রয়েছে।
শেষ দিন রোববার (২৫ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা উপজেলায় উপস্থিত হয়ে প্রশিক্ষণরত কৃষক ও সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর আলমডাঙ্গা পৌর এলাকা এবং ডাউকি এলাকার সারের দোকান ও গুদামগুলোর বাস্তব অবস্থা সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের নজর এখন মাঠপর্যায়ে
কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত সার থাকার পরও ডিলারের ঘরে সার না পেয়ে কৃষকদের সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে। আবার প্রশাসনের অভিযানে ডিলারের গুদাম থেকে অবৈধভাবে লুকিয়ে রাখা সার জব্দ ও জরিমানা আদায়ের নজিরও রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা অঞ্চলে বিভিন্ন সময় সার পাচারের ঘটনা এবং ডিলারের দোকানের সামনে কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে এই সরজমিন পরিদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের মতে, কেবল গুদামে কত বস্তা সার রয়েছে তা দেখলেই চলবে না; একজন ডিলার কতটা বরাদ্দ পেলেন, কতটুকু উত্তোলন করলেন এবং সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যে কৃষকদের মাঝে কতটা বিক্রি হলো—এই হিসাবগুলো মেলানো জরুরি। বরাদ্দের সঙ্গে বিক্রির নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা গেলে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং কৃষকেরাও হয়রানি ছাড়া ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন।

