শুঁটকিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

গবেষণায় প্রায় ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে পলিভিনাইল ক্লোরাইড ও পলিস্টাইরিন। ব্যবসায়ীরা মাছের লার্ভার অপচয় রোধে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন, যার মধ্যে রয়েছে ডিডিটি। ফলে মাছের শুঁটকিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের পাশাপাশি প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আজম খান।
গবেষণার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অধ্যাপক আশরাফুল আজম এশিয়া পোস্টকে জানান, বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে শুঁটকি উৎপাদন হলেও তা মানসম্মত ও নিয়ন্ত্রিত বৈজ্ঞানিক উপায়ে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে লার্ভার আক্রমণ ও অপচয় রোধ করতে ব্যবসায়ীরা ডিডিটি ও নগভস-এর মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা -এর নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য শৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন।
তিনি জানান, জলজ পরিবেশের বিভিন্ন বর্জ্য (মিউনিসিপ্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ডোমেস্টিক বর্জ্য) উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে প্লাস্টিক কনায় পরিণত হচ্ছে। আর সেই উপকূলীয় এলাকার মাছ থেকে তৈরি শুঁটকিতেও প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সরকার ও ভোক্তাদের করণীয়
মানবদেহকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন গবেষক আশরাফুল আজম। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব শুঁটকি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। খোলা মাঠে শুঁটকি না শুকিয়ে সোলার বা ছাদযুক্ত এবং ডেলিনিয়েটেড এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শুঁটকি প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এছাড়া শুঁটকি উৎপাদনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো জরুরি, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত প্লাস্টিক শিট, সিন্থেটিক দড়ি কিংবা প্যাকিংয়ের সময় যাতে প্লাস্টিক কণা মাছের সাথে মিশতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দৈনন্দিন প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কোস্টাল এলাকায় মিউনিসিপ্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক রিসাইক্লিং নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে জলজ পরিবেশকে দূষিত করতে না পারে। ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি সরকারিভাবেও এই বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা না হলে ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন অধ্যাপক আশরাফুল আজম খান।

