ভারতের ভোটার তালিকা নিয়ে পক্ষপাতমূলক সংহতি হয়েছে

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) পাস হয়, যেখানে তিনটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ছয়টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিপীড়িত সদস্যদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করার ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে এই আইনের আওতা থেকে একমাত্র বড় ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে ইসলামকে বাদ দেওয়া হয়।
সরকারের মূল বিপদটি ছিল এর পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে। তৎকালীন ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, প্রথমে নাগরিকত্ব বিল (সিএএ) আনা হবে এবং পরে দেশজুড়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, নথিপত্র দেখাতে না পারলে নাগরিক পঞ্জি থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতো এবং সিএএ-র মাধ্যমে মুসলিম ছাড়া বাকিদের ফের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
সেসময় দিল্লির শাহীন বাগে মুসলিম নারীরা এই বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে শীতজুড়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে সময় দাবি করেছিলেন যে তার সরকার দেশব্যাপী এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। কিন্তু ছয় বছর পর আজ ভিন্ন সংস্থা এবং ভিন্ন নামে সেই একই নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে বিহারে নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনীর আদেশ দেওয়ার সময় ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্তির’ বিষয়টি উল্লেখ করে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান যে এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে—যার অর্থ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনআরসি ঘোষণা না করেই ভোটার তালিকাকে নাগরিকত্ব পঞ্জি হিসেবে ব্যবহার করছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদে অমিত শাহ জানান, এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার করা’। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এসআইআর ভোটার তালিকা থেকে ‘বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম মুছে ফেলবে’।

