ইস্তিগফারে মিলবে পার্থিব কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি: কোরআন-হাদিসের আলোকে ১৫ ফজিলত

মহান প্রতিপালকের দরবারে নিজের ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফার করা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দিকনির্দেশনায় ইস্তিগফারের বহুবিধ কল্যাণ ও বরকতের বর্ণনা রয়েছে। এটি কেবল পরলৌকিক মুক্তিই আনে না, মানুষের দৈনন্দিন পার্থিব জীবনেও নিয়ে আসে স্বস্তি ও শান্তি।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের ১৫টি ফজিলত
পাপ মোচন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ: কোনো বান্দা যখন কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা চান, তখন মহান আল্লাহ তার সব গুনাহ মাফ করে দেন। একই সঙ্গে ইস্তিগফারকারী বান্দার প্রতি পরম করুণাময় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।
বিপদ-আপদ ও ঐশ্বরিক গজব থেকে সুরক্ষা: আসমানি ও জমিনি নানা ধরনের বালা-মুসিবত থেকে নিস্তার পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ইস্তিগফার। এর বরকতে আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তায় বড় কোনো গজব বা কঠিন আজাব থেকেও বেঁচে থাকা যায়।
রিজিকে প্রশস্ততা ও পারিবারিক প্রশান্তি: নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে জীবিকা ও উপার্জনে ধারণাতীত বরকত আসে। অভাব-অনটন দূর হওয়ার পাশাপাশি গৃহকোণে ফিরে আসে পারস্পরিক ভালোবাসা ও পারিবারিক সুখ-শান্তি।
মানসিক স্বস্তি ও অন্তরের পবিত্রতা: দৈনন্দিন জীবনের দুশ্চিন্তা, পেরেশানি ও মানসিক অস্থিরতা দূর করতে ইস্তিগফার দারুণ কার্যকর। এটি কলুষিত হৃদয়ের জং ও কালিমা ধুয়ে-মুছে মনকে স্বচ্ছ ও নির্মল করে তোলে।
ইমানি শক্তি ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি: ক্ষমা প্রার্থনার অভ্যাসে বান্দার অন্তরে নতুন উদ্যম, কর্মস্পৃহা ও আত্মিক বল তৈরি হয়। এর পাশাপাশি সমাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং সম্মানিতদের সম্মান আরও বৃদ্ধি পায়।
রহমতের বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক উর্বরতা: অনাবৃষ্টি বা খরা পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে রহমতের বারিধারা বর্ষণে ইস্তিগফারের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এর ফলে নদী-নালা সতেজ হয়ে ওঠে এবং জমিনের উর্বরতা বাড়ার কারণে ফসলের ফলন ভালো হয়।
নেক সন্তান ও দোয়া কবুলের সুবর্ণ সুযোগ: সংসারে সুসন্তান ও অনুগত বংশধর লাভের অন্যতম আমল হলো নিয়মিত ক্ষমা চাওয়া। এর মাধ্যমে বান্দা ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ’ বা যাঁদের দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়, সেই বিশেষ গুণ অর্জন করতে সক্ষম হন।
পরকালে চিরশান্তির জান্নাত: ইস্তিগফারের চূড়ান্ত ও মহোত্তম অর্জন হলো আখিরাতের মুক্তি। হাশরের কঠিন দিনে বান্দা সফলকাম হয়ে আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে চিরসুখের জান্নাত লাভ করবেন।

