রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
গাজীপুরে শ্রমিক অবরোধ: পুলিশ বক্সে আগুন, বিজিবি মোতায়েনজাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কে. এম. মোজিবুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎবেলা সাড়ে ১১টায় মজুরি বোর্ড ঘোষণা: শ্রমমন্ত্রীবাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন সফররত সেনাবাহিনীর সিজিএস’রইয়েমেনের নতুন সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৯০ হাজার: জাতিসংঘমন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী৮৬ বছরে বার্সার এমন গোলবন্যা দেখেনি কেউমজুরির দাবিতে মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, ফের সড়ক অবরোধক্রসফায়ার শুরু হলে দলের একটা লোককেও খুঁজে পাবেন না: বিএনপিকে হাসনাত আবদুল্লাহগাজীপুরে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ছুটি ঘোষণা ১০ কারখানায়
বিজ্ঞাপন

‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত’ কথাটি কি হাদিসসম্মত? যা বলছে ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত’ কথাটি কি হাদিসসম্মত? যা বলছে ইসলাম

পারস্পরিক মায়া-মমতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ইসলামে দাম্পত্য জীবনের ভিত। এই পবিত্র সম্পর্কের মধ্য দিয়েই পরিবার গড়ে ওঠে এবং পৃথিবীতে মানবপ্রজন্মের বিস্তার ঘটে। দাম্পত্য জীবনকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য উপহার ও অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর এবং স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর ভালোবাসার সম্পর্ক মূলত আল্লাহরই দান। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

ইসলামে দাম্পত্য জীবনে শুধু একজনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই পরস্পরের প্রতি সুনির্দিষ্ট অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ অধিকারের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘স্বামীদের যেমন তাদের (স্ত্রীদের) ওপর ন্যায়সঙ্গত হক রয়েছে, তেমনি তাদেরও হক রয়েছে স্বামীদের ওপর।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৯)

প্রচলিত ধারণার ভিত্তি কতটুকু?

সমাজে প্রায়ই স্বামীর প্রতি স্ত্রীর আনুগত্য ও তার মর্যাদার বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে একটি বহুল ব্যবহৃত বাক্য বলতে শোনা যায়—‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত’। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাক্যটির নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি আছে কি না, তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও হাদিস গবেষকদের সুস্পষ্ট মত হলো, পবিত্র কোরআনে এমন কোনো বক্তব্য নেই। এমনকি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) থেকেও সরাসরি এ ধরনের কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। ফলে এটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব বাণী বা হাদিস হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভুল ও অনুচিত কাজ।

হাদিসে যা বলা হয়েছে

সরাসরি এ ধরনের শব্দচয়ন না থাকলেও নির্ভরযোগ্য হাদিসের বর্ণনায় এর অন্তর্নিহিত ভাব বা মর্মার্থের সন্ধান মেলে। হাদিসগ্রন্থ মুয়াত্তা মালেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক নারী সাহাবি নিজের কোনো প্রয়োজনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন।

প্রয়োজন শেষে তিনি যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার কি স্বামী আছে?’ তিনি ইতিবাচক উত্তর দিলে নবীজি জানতে চান, ‘তার সঙ্গে তোমার আচরণ কেমন?’ ওই নারী প্রত্যুত্তরে জানান যে, তিনি যথাসাধ্য স্বামীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তখন মহানবী (সা.) তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘হ্যাঁ, তার সঙ্গে তোমার আচরণের বিষয়ে সজাগ থাকো। কারণ, সে তোমার জান্নাত বা তোমার জাহান্নাম।’ (মুয়াত্তা মালেক, হাদিস: ৯৫২)

উভয়ের অধিকার রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

ইসলামে স্বামীর প্রতি যেমন স্ত্রীর অধিকার রক্ষার কড়া তাগিদ রয়েছে, তেমনি স্ত্রীর হক আদায়েও স্বামীদের জবাবদিহির আওতায় রাখা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বামীদের সর্বদা স্ত্রীর অধিকার বিষয়ে সচেতন করেছেন। বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)

একইভাবে নারীদের ক্ষেত্রেও স্বামীর আনুগত্য করার ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন তিনি। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিক মতো আদায় করবে, রমজানের রোজা রাখবে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে, স্বামীর আনুগত্য করবে, তখন সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৪১৬৩)

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...