সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

জিপিএ-৫ পেয়েও ফিরবে না রাকিব, মিষ্টির বদলে বাড়িতে কুলখানি

নিজস্ব প্রতিবেদক০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জিপিএ-৫ পেয়েও ফিরবে না রাকিব, মিষ্টির বদলে বাড়িতে কুলখানি

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাকিবুল ইসলাম। ছেলের এমন সাফল্যে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের কথা ছিল পরিবারের। কিন্তু সেই আনন্দ উদ্‌যাপনের বদলে আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। এতিম শিশুদের খাবার খাইয়ে রাকিবের জন্য দোয়া করেছেন বন্ধু ও স্বজনেরা। হত্যার শিকার রাকিব আর কোনো দিন বাড়ি ফিরে এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে না।

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে শোকে ভারী হয়ে ওঠে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের বাড়ি। যে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ছেলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কুলখানির আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন রাকিব। স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ব্যারিস্টার হবেন, দেশের সেবা করবেন এবং মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

রাকিবের মা এখনও ছেলের বই-খাতা ও পড়ার টেবিল যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন। পাশে রেখেছেন তার ছবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পুরস্কার ও সম্মাননা। ছেলের স্মৃতিচিহ্ন আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

রাকিবের পরিবার জানায়, ছেলের ভালো ফলের খবর পেলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন সেই আনন্দের বদলে নতুন করে জেগে উঠেছে সন্তান হারানোর শোক। পরিবারের অভিযোগ, হত্যা মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা এখনও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম ও ছেলের ছবি হাতে মা জোহরা বেগম। ছবি : এশিয়া পোস্ট
রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম ও ছেলের ছবি হাতে মা জোহরা বেগম। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।

রাকিবের মা জোহরা বলেন, আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করেছি। স্কুলে সব সময় প্রথম হতো। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় ভর্তি প্রস্তুতি নিতে গিয়েছিল। আমার ছেলের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে তারা।

রাকিবের এক বন্ধু বলেন, রাকিব আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। আজ রাকিব বেঁচে থাকলে আমাদের মিষ্টি খাওয়াত। আমি চাই, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আজ বন্ধুর জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার পরিবর্তে কুলখানির আয়োজন করেছি। এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি, যেন তারা আমার বন্ধুর জন্য দোয়া করে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...