দিল্লির আধিপত্য না ভাঙলে রক্তের বলিদান বৃথা যাবে: জাবের

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দিল্লির আধিপত্য ও রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্নীতি ভাঙতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লা আল জাবের। তিনি বলেছেন, দিল্লির প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে পিলখানা থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত এ দেশের তরুণদের রক্ত ঝরলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সাংস্কৃতিক আড্ডায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল্লা আল জাবের বলেন, সাধারণ মানুষ যখন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কথা বলেন, তখন আমাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। তার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও পুরো বাংলাদেশ হাদি হত্যার বিচার চাইছে। শহীদ ওসমান হাদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলতেন। তিনি শিখিয়ে গেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এর প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও দিল্লির প্রভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই আধিপত্যবাদী বলয় থেকে দেশকে মুক্ত করতে না পারলে বারবার গুম ও হত্যার শিকার হতে হবে দেশের মানুষকে।
শ্রমিক আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাবের বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাড়িভাড়া ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বেঁচে থাকার উপযোগী ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। অথচ তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। পুলিশ এ সময় অজুহাত দেখাচ্ছে, সেখানে ছাত্রলীগের সদস্যরা প্রবেশ করেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় পরও ছাত্রলীগ কীভাবে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। জাবেরের অভিযোগ, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করছেন। অথচ এর ফলে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকেরা।
তিনি বলেন, ইনসাফের কথা বললেও একজন মানুষকে জুলুমের শিকার হতে দেওয়া ইনসাফের পরিপন্থি। বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে ধাক্কা না দিলে তা সামনে এগোয় না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অনেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন কিংবা ক্ষমতার আসনে বসেছেন। কিন্তু এখন তাদের অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা ভুলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

