নারায়ণগঞ্জে পাঁচ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা, যানচলাচল স্বাভাবিক

এর মধ্যে ভুইগড়ের কাছাকাছি এসবি গার্মেন্টসের শ্রমিকদেরও বাইরে বের করে আন্দোলনে যুক্ত করার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানালে সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
বেলা আড়াইটার দিকে ভুইগড় মোড়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান নেন। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে উভয় পক্ষ সড়ক থেকে সরে যায়। বৃষ্টি থামার পর আবারও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় প্রশাসন,পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেন।
পরে আবার লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিকেলের দিকে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা অবরোধ স্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি বিবেচনা এবং আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেল ৫টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে যান। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়া হবে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সমাধান আসবে বলে আমরা আশাবাদী। সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার জন্য আমরা আশ্বস্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকেরা সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে পুলিশ সুপার, সংসদ সদস্যসহ আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাদের কর্মসূচি চলে। বর্তমানে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কোথাও কোনো অবরোধ নেই। যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই যানজট কমে সড়কের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। অবরোধ চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। সড়কে অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো।

