ফ্রিজের কিস্তির টাকার জন্য তাঁতী দল নেতা খুন, ছাত্রদল নেতাসহ আসামি ৫

ফ্রিজের কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে খুলনায় মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রদলের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আরাফাত হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন নিহতের ছেলে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আড়ংঘাটা থানায় মামলাটি করা হয়। নিহতের ছেলে সৈয়দ সিয়ামের করা মামলায় আরাফাত হোসেন ও শেখ সিদ্দিকসহ পাঁচজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ সিদ্দিককে (৫৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত শেখ ইদ্রিস আলী ওরফে ইদিল ফকিরের ছেলে। রোববার রাতে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, শেখ সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছাত্রদল নেতা আরাফাতসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।
এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) রাতে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমারা রায় জানিয়েছিলেন, ফ্রিজের কিস্তির টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরেই হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরীর মোস্তফার মোড় এলাকায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেনের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে একটি রেস্তোরাঁ ও ফ্রিজের দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকেই কিস্তিতে ফ্রিজ কিনেছিলেন হুমায়ুন কবির।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিস্তির টাকা পরিশোধে কয়েক দিন দেরি হওয়ায় রোববার সন্ধ্যায় আরাফাত তার ভাইদের নিয়ে হুমায়ুন কবিরের রায়েরমহল এলাকার বাড়িসংলগ্ন ক্যান্টিনে যান। সেখানে হুমায়ুন কিস্তির টাকা দিতে আরও কয়েক দিন সময় চাইলে আরাফাত ও তার ভাইয়েরা ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আরাফাত ও তাঁর ভাইয়েরা সেখান থেকে চলে যান। পরে আরও লোকজন নিয়ে ফিরে এসে হুমায়ুন কবিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

