ডিএনএ বিশ্লেষণে কয়েক সেকেন্ডেই ফল দেবে বাকৃবির নতুন সফটওয়্যার

এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ডিএনএ সিকোয়েন্সের জন্য একটি সংখ্যাগত তালিকা তৈরি করা হয়। পরে তালিকাগুলো তুলনা করে সিকোয়েন্সগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি করা যায় বংশবৃক্ষ, যার মাধ্যমে বিভিন্ন জীবের জিনগত মিল ও পার্থক্য সহজে শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষকদের দাবি, পরীক্ষায় নতুন পদ্ধতিতে তৈরি বংশবৃক্ষের নির্ভুলতা পাওয়া গেছে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।
এ গবেষণার ফলাফল নিয়ে লেখা একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মলিকিউলার জেনেটিক্স অ্যান্ড জিনোমিক্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলের প্রধান ড. মেছবাহ উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে ডিএনএ বা প্রোটিনের গঠনের সাদৃশ্য নির্ণয় করতে কখনো কখনো প্রায় এক মাস পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ তাদের উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই নির্ভুল ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এটি দ্রুত কাজ করার পাশাপাশি কম্পিউটারের মেমোরিও তুলনামূলক কম ব্যবহার করে।
তিনি আরও জানান, সফটওয়্যারটির ডেস্কটপ ও ওয়েব সংস্করণ ইতোমধ্যে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
‘গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ভিত্তিক ডেস্কটপ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ডিএনএ সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য দক্ষতার সঙ্গে শনাক্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএসএম বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফ। অনুষ্ঠানে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ বলেন, প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে গবেষণায় ব্যবহারযোগ্য এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মাত্র তিন মাসের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এ সফটওয়্যার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এ সফটওয়্যার ডিএনএ বিশ্লেষণে সময় ও কম্পিউটারের মেমোরি সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের জীবপ্রযুক্তি ও বায়োইনফরমেটিক্স গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

