মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
বিজ্ঞাপন

দেশের ক্রিকেটারদের জন্য সুখবরের আভাস দিলেন তামিম

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০১ এএম
দেশের ক্রিকেটারদের জন্য সুখবরের আভাস দিলেন তামিম

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ইতোমধ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চাননি বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিসিবি ও মোবাইল অপারেটর রবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘রবি বোলার হান্ট’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তামিম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় বোলার খুঁজে বের করার এই আয়োজনের শেষ দিনে ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি।

ক্রিকেটারদের জন্য নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নই, তবুও দেশজুড়ে অনেক ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে এমন একটি ঘোষণা দেওয়ার খুব কাছাকাছি আমি পৌঁছে গেছি। আমি এবং আমার ক্রিকেট বোর্ড একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা তা ঘোষণা করতে পারব।’

তবে নতুন প্রকল্পের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, কারা এর আওতায় আসবেন কিংবা ক্রিকেটাররা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি বিসিবি সভাপতি।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, বোলার হান্টের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা না পাওয়া প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। যারা প্রথম ধাপে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কার্যক্রমে সুযোগ পাবেন না, তাদেরও অনুশীলন ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ করে দিতে চায় বোর্ড।

সমাপনী অনুষ্ঠানেই এই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করার কথা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তামিম। ফলে প্রকল্পটির চূড়ান্ত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রিকেটার তুলে আনার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুরু হয়েছিল ‘রবি বোলার হান্ট’। এবারের আয়োজনে শুধু পেসার নয়, স্পিনারদেরও প্রতিভা দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশ নিতে পেরেছেন নারী ক্রিকেটাররাও।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে শুরু হয় আঞ্চলিক বাছাই। দেশের আট বিভাগের নয়টি স্থানে আয়োজন করা হয় ট্রায়াল।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান বোলারদের খুঁজে বের করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে যেসব তরুণের পেশাদার ক্রিকেটে প্রবেশের সুযোগ কিংবা আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সীমিত, তাদের সামনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ তৈরি করা হয়।

বাসসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বোলার হান্টে ২৫ হাজারের বেশি তরুণ নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১৪৩ জন সম্ভাবনাময় বোলারকে চিহ্নিত করা হয়। এই তালিকায় ছিলেন ৫৭ জন পেসার ও ৮৬ জন স্পিনার। মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১০৮ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী।

পরবর্তী ধাপে ৫৬ জন পেসারকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও বাছাই ক্যাম্পের জন্য নির্বাচন করা হয়। তাদের মধ্যে ৫১ জন পুরুষ, তিনজন নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা দুজন প্রতিযোগী ছিলেন।

প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, চূড়ান্ত বাছাইয়ের মাধ্যমে ১২ জনকে বিসিবির এইচপি কার্যক্রমে নেওয়া হবে। তবে সমাপনী অনুষ্ঠানের পর নির্বাচিত প্রতিভাবান বোলারদের তালিকা আরও বড় হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ২১ জনকে নির্বাচনের পাশাপাশি বিশেষ বিবেচনায় আরও দুই শিশু বোলারকে যুক্ত করেছে বিসিবি। তারা হলেন নয় বছর বয়সী সাইফ ও ১২ বছর বয়সী শোয়েব। ফলে মোট নির্বাচিত বোলারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩।

বিশেষ করে সাইফের প্রতিভা নজর কেড়েছে নির্বাচকদের। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার এই শিশুর আদর্শ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার পল অ্যাডামস। সমাপনী অনুষ্ঠানে তামিমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় গুগলিতে তাকে আউট করার ইচ্ছাও প্রকাশ করে সাইফ।

অন্যদিকে শোয়েবও নিজের বাঁহাতি স্পিনে নির্বাচকদের মুগ্ধ করেছে। বয়স কম হলেও সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে দুজনকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

নির্বাচিত ২৩ বোলারের দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স কার্যক্রমে যুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অন্যদের উন্নয়নের ধারাও যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য বিকল্প প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কথা ভাবছে সংস্থাটি।

এই প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক লেগ স্পিনার মুশতাক আহমেদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার কোরি কলিমোর এবং বাংলাদেশের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও সোহেল ইসলাম। তারা তরুণ বোলারদের দক্ষতা, বোলিং অ্যাকশন, গতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করেছেন।

খেলাধুলা থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...