মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
স্বাস্থ্যসনদ দেখাতে না পারায় জমিদারি ভোজকে লাখ টাকা জরিমানাএকাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য: নিয়োগের প্রতিশ্রুতি না রাখাতেই হেনস্তা আইইডিসিআর পরিচালকখুলনায় অপরাধ: পথে পথে চাঁদা, কথায় কথায় খুনগাইবান্ধার চরাঞ্চল: ভুট্টা চাষে সার মিলছে নাপিরোজপুরের নেছারাবাদ: পাইলিং করে বন্ধ সেতু নির্মাণনারায়ণগঞ্জে এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪কালুরঘাট থেকে চৌধুরীহাট: বালুর দেড় শতাধিক অবৈধ স্পটরূপগঞ্জে টেক্সটাইল মিলে কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ জন দগ্ধডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেল শিশুর, মায়ের বুকফাটা আর্তনাদহাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষকের, সুপারকে শোকজ
বিজ্ঞাপন

সংসদীয় কমিটির বৈঠক: বিমানের টিকিটের দাম ও ফ্লাইট বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ এএম
সংসদীয় কমিটির বৈঠক: বিমানের টিকিটের দাম ও ফ্লাইট বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটির বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। এর আগেও এ ধরনের সমস্যা হওয়ায় বারবার কেন এমন ঘটনা ঘটছে, তা জানতে চায় কমিটি।

জবাবে বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণের জন্য সব সময় বহরের আধুনিক উড়োজাহাজ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আগের এক মাসের ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

এ ছাড়া বিমানের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতায় সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের লিফট, সেবা ও পরিবেশ নিয়ে কমিটির কয়েকজন সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে একজন সদস্য বলেন, অনলাইনে বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। কিন্তু উড়োজাহাজে ওঠার পর অনেক আসন ফাঁকা দেখা যায়।

বৈঠকে বিমানের অডিট আপত্তি নিয়েও আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি জানতে চান, ঢাকা-গুয়াংজু-ঢাকা রুটে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট ও রাজস্ব আদায়ে ৭৩৬ কোটি টাকার অনিয়ম কীভাবে হয়েছে। ১৮টি অডিট আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দেওয়া সম্ভব কি না, তা জানতে চান তিনি।

এ ছাড়া ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজ, অচল যন্ত্রপাতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনা এবং পুরোনো উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চায় কমিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা অনাদায়ি রয়েছে এবং এই ঘটনায় কতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।

বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের স্বল্পতা, বোর্ডিং গেটে সংকট, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা এবং স্থায়ী ইউএলডি ইয়ার্ড না থাকার বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চেক-ইন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কাউন্টার নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাউন্টার বন্ধ করা সম্ভব হয় না, যা ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও সময়ানুবর্তিতা (ওটিপি) ব্যাহত করে। গেট বরাদ্দে বিলম্ব, একই গেট একাধিক ফ্লাইটে ব্যবহার এবং বোর্ডিং ব্রিজের স্বল্পতায় যাত্রী ওঠানামায় সমস্যা হয়। বিশেষ করে ৩০০ থেকে ৪০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার ওয়াইডবডি উড়োজাহাজে বোর্ডিংয়ে বেশি সময় লাগে।

ডিপারচার ব্যাগেজ এলাকায় জায়গার সংকট এবং আগমনী ব্যাগেজ বেল্টের স্বল্পতায় লাগেজ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি ফ্লাইট এলে এই সমস্যা বাড়ে। স্থায়ী ইউএলডি ইয়ার্ড না থাকায় বিমান ও বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ইউএলডি ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, হচ্ছে আর্থিক ক্ষতিও। এ ছাড়া রিমোট বে বরাদ্দে বে নম্বর উল্লেখ না করা এবং জিএসই রাখার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিলম্ব হয়।

বৈঠকে গত ১০ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০১ কোটি ৪৭ লাখ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বাকি অর্থবছরগুলোতে লাভ করেছে বিমান। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (নিরীক্ষাধীন) লাভ হয়েছে বলে জানানো হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লাভ ছিল ৭৮৫ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৮২ কোটি টাকা।

কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...