বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা ডট নেট
শিরোনাম
আজকের রাশিফল: ভুল ধরা স্বভাবের কারণে প্রেমের মিষ্টি গন্ধ মুহূর্তেই বারুদ হয়ে যাবেমিরপুরে স্বাভাবিক যান চলাচল, শ্রমিকদের উপস্থিতি নেইলক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতাসহ আহত ৩, ককটেল বিস্ফোরণগাজীপুরে যান চলাচল স্বাভাবিক, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীমার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে ৭ শতাধিক চিঠি, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারবায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থান কতযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমসদখল না সরালে উচ্ছেদ, লালপুরের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করল প্রশাসনরাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪জাতীয় সংবিধান দিবস আজ
বিজ্ঞাপন

ভোলায় পাচারের সন্দেহে ২৯০ বস্তা সার আটক, গোডাউন সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
ভোলায় পাচারের সন্দেহে ২৯০ বস্তা সার আটক, গোডাউন সিলগালা

ভোলার ইলিশায় নদীপথে সার পাচারের সন্দেহে ২৯০ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে সারগুলো জব্দ করে একটি গোডাউন সিলগালা করেছেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে জেলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সারগুলো বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পাঠানোর জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নদীপথে ভোলা থেকে মাদারীপুরে সার নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন সারবোঝাই একটি ট্রলার ও একটি নসিমন থেকে ২৯০ বস্তা সার আটক করেন। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে সরকারি মূল্য নির্ধারিত টিএসপি ও ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার ছিল।

আটক ট্রলারের মাঝি শহীদ জানান, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান সারগুলো বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে কিনেছেন। ভোলার বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পাঠানোর জন্য সেগুলো তার মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছিল। জেলার বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে সারগুলো নেওয়া হচ্ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

কৃষক রফিকও দাবি করেন, তিনি সারগুলো কিনে চরে পাঠানোর জন্য নৌকায় তুলছিলেন। স্থানীয়রা না বুঝে সেগুলো আটক করেছেন। তবে সার কেনার কোনো রসিদ দেখাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, ট্রলারের মাঝি শহীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হিসেবে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। ৮০ বস্তার রসিদ থাকলে বাকি ২১০ বস্তা সার কোথা থেকে এলো?

তিনি অভিযোগ করেন, ভোলার সাধারণ কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে সার বিক্রি না করে অধিক মুনাফার আশায় জেলার বাইরে নেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিএডিসি সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি।

কৃষক মাকসুদ অভিযোগ করেন, ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার উত্তোলন করেন। পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় জেলার বাইরে নিয়ে যান। এতে ভোলার কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। মাঠপর্যায়ে সারের সংকট থাকলেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ তার।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে দুই দিন পর পর সারের দাম বাড়ছে। ফলে বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে না পেরে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ইলিশা থানা-পুলিশ সারগুলো জব্দ করে রাখে।

ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ডিলার পয়েন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারগুলো ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে রাতে ২৯০ বস্তা সার উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউন সিলগালা করেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল।

ইউএনও সজল কুমার দাস বলেন, সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাই যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রাখা হয়েছে এবং গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সার পাচার বা অবৈধভাবে মজুদের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...