মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে ৭ শতাধিক চিঠি, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির শত শত সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে সাদা গুঁড়াসহ ৭০০টির বেশি হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম রবিন প্যাট্রিক মার্টিন। ৬৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ওকলাহোমা সিটির বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জেলা আদালতে হাজির করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।
মার্টিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং ডাকযোগে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মার্টিন শত শত অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তার কাছে সাদা গুঁড়াসহ ৭০০টির বেশি চিঠি পাঠিয়েছেন। এসব চিঠির প্রাপকদের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং নির্বাচনী জরিপকারীরাও রয়েছেন।
প্রাথমিক পরীক্ষায় চিঠিগুলোর সঙ্গে পাঠানো সাদা গুঁড়া ক্ষতিকর নয় বলে জানা গেছে। এতে মূলত ইস্ট বা ময়দার উপাদান পাওয়া গেছে। তবে সব চিঠির পরীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ও রাষ্ট্রদ্রোহের হুমকি
এফবিআইয়ের এজেন্ট ডেভিড কোলের আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, চিঠিগুলোতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল।
কোল জানান, চিঠির লেখক ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে নিজের আপত্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ওই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
চিঠিগুলোতে প্রাপকদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার কিংবা আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি চিঠিতে অতিবেগুনি রশ্মির আলোয় দৃশ্যমান বিশেষ কালিতে লেখা ছিল, ‘ইতিহাসের সঠিক পাশে থাকুন! আপনার জীবন এর ওপর নির্ভর করতে পারে।’
রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের পরিবর্তে তিনিই জয়ী হয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এসব ভিত্তিহীন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর সমর্থকেরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালান। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করাই ছিল ওই হামলার উদ্দেশ্য।

