ইউরোপে সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশগামী দুটি ফ্লাইটও হুমকির কারণে প্রভাবিত হয়। এর একটি লন্ডনের হিথরো থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ওয়ারশর শোপেন বিমানবন্দরের পরিবর্তে ছোট মডলিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ কারণে কিছু সময়ের জন্য মডলিন বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে হয়।
বুলগেরিয়ার পরিবহনমন্ত্রী জর্জি পিভ জানান, ইতালির বার্গামো ও ডাবলিন থেকে সোফিয়াগামী দুটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। দেশটির সীমান্ত পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে পাওয়া একটি ই-মেইলে বার্গামো থেকে আসা ফ্লাইটে অস্থায়ী বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার কথা বলা হয়। একই ই-মেইলে ডাবলিন থেকে আসা আরেকটি ফ্লাইটের বিরুদ্ধেও একই ধরনের হুমকি ছিল।
যুক্তরাজ্য সরকার ঘটনাগুলোকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে। তবে উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পল ম্যাসনের মতে, বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে লক্ষ্য করে বিশ্বাসযোগ্যভাবে হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কাজ হতে পারে। আকাশপথের চলাচল ব্যাহত করাই এর উদ্দেশ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।
সাবেক পাইলট ও উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মার্কো চ্যান বলেন, বোমা হামলার হুমকিকে সত্যিকারের হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়, যতক্ষণ না তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের কর্মীরা শৌচাগার, খাবার প্রস্তুতের জায়গা ও মালপত্র রাখার স্থান পরীক্ষা করেন। সন্দেহজনক কোনো বস্তু নাড়াচাড়া করা হয় না। অবতরণের পর উড়োজাহাজটিকে অন্য উড়োজাহাজ থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। এরপর যাত্রীদের নামিয়ে পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তল্লাশি চালায়।
এর আগে গত সোমবার লন্ডনের লুটন থেকে ছেড়ে যাওয়া উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইটও বোমা হামলার হুমকির পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে জরুরি অবতরণ করে। হাঙ্গেরির একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে। তল্লাশিতে অবশ্য কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

