মালিঙ্গাসহ তিন কোচকে বিদায় করল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

আইপিএলের সর্বশেষ আসরে ভরাডুবির পর কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন আনছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের বিদায়ের পর এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মূল দলের কোচিং প্যানেল ছাড়ছেন লাসিথ মালিঙ্গাও। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি এই পেসারের পাশাপাশি আরও দুই কোচকে বিদায় জানিয়েছে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। তারা হলেন ভারতের সাবেক পেসার পারস মামব্রে এবং ইংল্যান্ডের সাবেক ফিল্ডিং কোচ কার্ল হপকিনসন। আগামী মৌসুমে নতুন প্রধান কোচ কাইরন পোলার্ডের অধীনে ঢেলে সাজানো হচ্ছে মুম্বাইয়ের কোচিং প্যানেল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিন কোচের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন মালিঙ্গা ও মামব্রে। অন্যদিকে ফিল্ডিং বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন হপকিনসন। তবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের প্রতি অবদান, আন্তরিকতা ও দীর্ঘদিনের সেবার জন্য মালিঙ্গা, মামব্রে এবং হপকিনসনের প্রতি কৃতজ্ঞ তারা। তিনজনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও স্মৃতিগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
তিন কোচের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মালিঙ্গার বিদায় নিয়ে। কারণ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রায় দেড় যুগের। খেলোয়াড় হিসেবে দলের অন্যতম সফল ক্রিকেটার ছিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক এই পেসার। এরপর মেন্টর ও কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইপিএলে মুম্বাইয়ের হয়ে ১২২ ম্যাচে ১৭০ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। তার বিধ্বংসী ইয়র্কার ও ডেথ ওভারের বোলিংয়ে ভর করে ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে আইপিএল শিরোপা জেতে মুম্বাই। পাশাপাশি ২০১১ ও ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি জয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তার।
বিশেষ করে ২০১৯ সালের আইপিএল ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে মালিঙ্গার শেষ ওভারটি মুম্বাই সমর্থকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। শিরোপা জিততে শেষ বলে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল দুই রান। সেই বলেই শার্দুল ঠাকুরকে এলবিডব্লিউ করে এক রানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেছিলেন মালিঙ্গা।
মুম্বাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু খেলোয়াড় হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৮ সালে দলের বোলিং মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরের বছর আবারও খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে ফিরে আইপিএল শিরোপা জেতান মুম্বাইকে। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানাধীন এমআই নিউইয়র্ক ও এমআই কেপটাউনের কোচিং বিভাগেও কাজ করেন মালিঙ্গা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে তাকে মূল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের আইপিএলে সেই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
মালিঙ্গার অবদানের প্রশংসা করে মুম্বাই জানিয়েছে, দলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তিনি। চারটি আইপিএল শিরোপা এবং দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি কোচ ও মেন্টর হিসেবে তার অবদান নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে তার অবদান সব সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে পারস মামব্রের সঙ্গেও মুম্বাইয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কোচিং প্যানেলে কাজ করেছিলেন ভারতের সাবেক এই পেসার। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভারতের ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী কোচিং প্যানেলেরও সদস্য ছিলেন মামব্রে।
২০২৪ সালে আবারও মুম্বাইয়ের কোচিং প্যানেলে ফেরেন তিনি। তরুণ পেসারদের উন্নতি এবং দলের বোলিং পরিকল্পনা তৈরিতে তার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বিদায় নেওয়া আরেক কোচ কার্ল হপকিনসন অবশ্য তুলনামূলক কম সময় ছিলেন মুম্বাইয়ের সঙ্গে। ২০২৫ সালের আইপিএলের আগে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল তার। ইংল্যান্ডের ২০১৯ ওয়ানডে এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী কোচিং প্যানেলের সদস্য ছিলেন হপকিনসন।

