সিলেটে সবুজ উইকেট, বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিকল্পনা?

স্পিনের ফাঁদ পেতেও ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। উল্টো স্বাগতিকদের চেয়ে দ্বিগুণ উইকেট নিয়েছেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। মিরপুরের সেই ব্যর্থতার পর এবার চেনা কৌশল থেকে সরে আসার কথা ভাবছে বাংলাদেশ। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্পিনের পরিবর্তে পেসারদেরও সুবিধা দিতে পারে এমন উইকেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অনুশীলনের সময় উইকেটে সবুজ ঘাসও দেখা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ঘাস রাখা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে আট উইকেটে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প নেই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।
প্রথম টেস্টে স্পিনসহায়ক উইকেট তৈরি করেও সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা নিয়েছেন ১৬ উইকেট। বিপরীতে বাংলাদেশের তিন স্পিনারের শিকার মাত্র আটটি।
বিশেষ করে জোমেল ওয়ারিক্যান ও রস্টন চেজের সামনে বিপর্যস্ত হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়ারিক্যান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক চেজ।
প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিডও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের লক্ষ্য মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
মিরপুরের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার উইকেট নিয়ে নতুন করে ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিলেটে অনুশীলনের সময় সবুজ ঘাসের উপস্থিতি দেখা গেছে। খেলোয়াড়রা উইকেট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রধান কিউরেটর টনি হেমিংয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
জাতীয় দলের একজন নির্বাচকের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, শুধু স্পিননির্ভর আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামলে বাংলাদেশের সুবিধা হবে না। কারণ নিজেদের ব্যাটাররাও স্পিনের বিপক্ষে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি স্পিননির্ভর আক্রমণ আমাদের কাজে আসবে না। কারণ আমরা নিজেরাও স্পিন খুব ভালো খেলি না। বরং গত কয়েক মৌসুমে ভালো উইকেটে পেস বোলিংয়ের সাহায্য নিয়ে ম্যাচ জিতেছি।’
সিলেটের অতীত রেকর্ডও এমন পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি তৈরি করছে। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ছয় টেস্ট খেলে তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দুই ম্যাচে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। সেই ম্যাচগুলোতে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ উইকেটে ভালো করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার ও পেসাররা।
তবে সবুজ উইকেট তৈরি করলেই যে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণেও রয়েছেন শামার জোসেফ, জেইডেন সিলসদের মতো পেসার। অভিজ্ঞ কেমার রোচও একাদশে ফিরতে পারেন।
ক্যারিবীয় কোচ ড্যারেন স্যামি জানিয়েছেন, উইকেটে ঘাস থাকলে রোচকে খেলানোর সুযোগ রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ ঘাস ছেঁটে ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ম্যাচের দিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান ক্যারিবীয় কোচ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের একাদশেও বাড়তি পেসার খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মিরপুরে দুই পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে খেলেছিল স্বাগতিকরা। সিলেটে সেই সমন্বয় বদলে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ।
সেক্ষেত্রে তাসকিন আহমেদ অথবা সিলেটের স্থানীয় পেসার এবাদত হোসেনকে একাদশে দেখা যেতে পারে। তবে তাঁদের মধ্যে কে সুযোগ পাবেন, কিংবা কোন স্পিনার বাদ পড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ চার টেস্টে মাত্র পাঁচ উইকেট পাওয়া তাইজুল ইসলামের জায়গা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ব্যাটিংয়েও পরিবর্তন আসতে পারে বাংলাদেশের। চোট কাটিয়ে মুশফিকুর রহিমের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কনকাশনের কারণে ছিটকে যাওয়া মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক শান্তকে তিন নম্বরে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ ফিল সিমন্স।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের উইকেট নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন সিমন্স। তাঁর মতে, মাঠের পুরো স্কয়ার এবং ম্যাচের উইকেট ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার সকালে উইকেট আবারও পর্যবেক্ষণ করতে চান তিনি।
বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে, তা জানা যাবে ম্যাচের দিন।

